বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ঘাতকরা বাঙালী জাতীয়তাবাদকে হত্যা করতে চেয়েছিলঃ তালুকদার আঃ খালেক 

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ঘাতকরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও আদর্শকে হত্যা করতে চেয়েছিল। যাঁর হাত ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ তাঁকে সপরিবারে হত্যা করার অন্যতম কারণ ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। তার প্রমাণ পাওয়া খুনি জিয়াউর রহমান গংরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ পাল্টে দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করার মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমান সুচিন্তিতভাবে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখেই ওটা করেছিলেন। তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল পূর্ব বাংলার ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিম লীগ, জামায়াতসহ অন্যান্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি।
সিটি মেয়র বলেন, জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানতেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা যত দিন অক্ষুন্ন থাকবে, তত দিন বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির চেতনাপট থেকে মুছে ফেলা যাবে না। কেননা বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে গেছে বঙ্গবন্ধুর নাম। তাই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ চালু করে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাঙালি জাতিসত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের পাকিস্তানীকরণের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে মূলত সে প্রক্রিয়াই শুরু করে। স্বাধীন বাংলাদেশকে মন ও মননশীলতায় কতটা পাকিস্তানের কাছে নেওয়া যায়, এটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তাঁর এবং তাঁর দলের শত চেষ্টা সত্ত্বেও বাঙালি মানস থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত টলানো যায়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিতকে আরো মজবুত করেছেন।বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওযার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতার করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। এসময়ে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মল্লিক আবিদ হোসেন কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কামাল, সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেন। ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি চ.ম. মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মীর মো. লিটনের পরিচালনায় এসময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আকিল উদ্দিন, মো. আমির হোসেন, আলী আকবর মাতুব্বর, তোতা মিয়া ব্যাপারী, মো. ই¯্রাফিল, কবির পাঠান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। শোকসভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।খবরঃ বিজ্ঞপ্তির