প্রতিভাবান কবি ও কথাসাহিত্যিক আবুবকর সিদ্দিক আর নেই

ফাইল ছবি।

নিউজ ডেস্কঃ
বাংলা সাহিত্যের প্রতিভাবান কবি আবু বকর সিদ্দিক ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর আজ বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকটা নীরবে নিভৃতে চলে গেলেন তিনি। কবি ও কথাসাহিত্যিক আবুবক্কর সিদ্দিকির নিজ পরিচয় যথেষ্ট। তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে অন্য কোন পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি নি:সন্দেহে একজন গুণী ব্যক্তি।
কবি ও কথাসাহিত্যিক আবুবকর সিদ্দিক ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাটের গোটাপাড়া মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি মূলত কবি। কিন্তু তাঁর কবিসত্তা অত্যন্ত সচেতনভাবে কথাশিল্পীসত্তার ওপর প্রভাব আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে পেরেছে। আবুবকর সিদ্দিকের গল্পগ্রন্থের সংখ্যা দশ। ভূমিহীন দেশ (১৯৮৫), চরবিনাশকাল, মরে বাঁচার স্বাধীনতা, কুয়ো থেকে বেরিয়ে, ছায়াপ্রধান অঘ্রান, কান্নাদাসী, বামাবর্ত, মুক্তিলাল অভ্যুদয়, কালোকুম্ভীর, হংসভাসীর তীওে (২০০৮)। লেখকের উপন্যাসসমূহ হলো : জলরাক্ষস (১৯৮৫), খরাদাহ, একাত্তরের হৃদয়ভস্ম, বারুদপোড়া প্রহর (১৯৯৬)।
এসব গল্প ও উপন্যাসে বিষয়ের বহুমাত্রিক বিন্যাস কথাশিল্পীকে সমকালীন অন্যান্য কথাসাহিত্যিক থেকে স্বতন্ত্র করে দিয়েছে। তবে তার কবিতার জগৎ বিষয়বৈচিত্র্যে ও ক্রম রূপান্তরে ঋদ্ধ। প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে থেকে শুরু করে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, উৎপলকুমার বসু পর্যন্ত অনেক কবির ব্যক্তিগত সান্নিধ্যে এসেছেন তিনি। তবে কারও দ্বারা প্রভাবান্বিত হননি। তাঁর কবিতার ভাষা, উপমা, চিত্রকল্প, প্রতীকের রয়েছে স্বতন্ত্র মেজাজ।
সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি আবুবকর সিদ্দিক ভূষিত হয়েছেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ কথাশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ঋষিজ পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার ও সম্মাননায়।