খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন কোমলপুর গ্রামের মৃত ইনছান সরদার এর মেয়ে রেবেকা বেগম গত ২১/০৬/২০২৫ খ্রি. সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ি থেকে বের হন। পরবর্তীতে ২২/০৬/২০২৫ খ্রি. বিকাল ১৬.০০ ঘটিকার সময় ডুমুরিয়া থানাধীন ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের বান্দা সাকিনস্থ শকুরের বিলের অসিম কুমার বিশ্বাস এর মাছের ঘেরের পাড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর রক্তাক্ত যখম অবস্থায় রেবেকা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম রেবেকার বোন পারুল বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে ডুমুরিয়া থানার মামলা নং-১৬, তারিখ-২৩/০৬/২০২৫ খ্রি., ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। মামলা রুজুর পর খুলনা জেলা পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেন এর নিবিড় তত্বাবধানে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার এবং হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব মুক্ত রায় চৌধুরী, পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্ত পরিচালনাকালে ঘটনার পরিপার্শ্বিকতা এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডল (৫৩), পিতা-মৃত ননী গোপাল মন্ডল, সাং-বান্দা, থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ রিমান্ডে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে রেবেকা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ঠ আলামত উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, রেবেকা বেগমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সম্পর্কের এক পর্যায়ে রেবেকা বেগম গ্রেফতারকৃত প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডলকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। গত ২১/০৬/২০২৫ খ্রি. অনুমান ১৮.৩০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে রেবেকা বেগমের সাথে দেখা হলে ঐ দিনই রেবেকা বেগম প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডলকে বিবাহ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাকে হত্যা করে।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব অমিত কুমার এর আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির