সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আ”লীগ অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবেঃ প্রধানমন্ত্রী

 

নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও বাঁধা মোকাবেলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, ‘আঘাত আসবে, ষড়যন্ত্র হবে, কিন্তু, সেই আঘাত ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। সেটাই আমরা চাই।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, জাতির পিতার স্বপ্ন ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করবো।’
নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগের নতুন আইন প্রণয়নসহ তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আবারও আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন।
সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। আগে নির্বাচন কমিশনের কোন আর্থিক সক্ষমতা ছিল না। সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে রাখা ছিল, যেটা আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্বাচন কমিশনের হাতে দিয়ে দিয়েছি। বাজেট থেকে সরাসরি তাদের টাকা দেয়া হয়। যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং বেশ কিছু স্থানে ইভিএম চালু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইভিএম করার পরে আর কোন ভোট জালিয়াতি করার সম্ভাবনা রয়েছে কি-না, তা আমার জানা নেই।

ভোট চুরি করে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। বিএনপিকেও ছাড়েনি। তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামায় জনগণ। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দেয়।
২০০৮ সাল থেকে পরপর তিনবার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে পৃথিবীর মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় যেতে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিল খালেদা জিয়া। বর্তমানে ভোটার আইডি, স্মার্ট করা হয়েছে। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুর সন্তান দুর্নীতি করে টাকা আয় করতে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে তাঁর এবং তাঁর সরকারের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল। তিনি সেই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মোকাবিলা করেন, যা পরে ভুয়া প্রমাণিত হয়। আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি ঘরে আলো পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর তিনি চার চারবার প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিবার দুর্নীতিই যদি করতো, তাহলে দেশের মানুষকে আর কিছু দিতে পারতো না। তাঁরা দেশের মানুষকে দিতে এসেছেন। মানুষের জন্য করতে এসেছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এর আগে সম্মেলন মঞ্চে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’- এই স্লোগানে আয়োজিত হচ্ছে এবারের কাউন্সিল।
এতে আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। শোক প্রস্তাবের পর সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার আগামীর বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি জনশক্তি স্মার্ট হবে তারা প্রতিটি কাজ অনলাইনে করতে শিখবে, ইকোনমি হবে ই ইকোনমি যতে সম্পূর্ণ অর্থব্যবস্থাপনা ডিজিটাল ডিভাইসে হবে। তথ্যঃ বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর উৎক্ষেপিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে এবং এখন দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ১৮ কোটি ১৭ লাখ মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৬২ লাখ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে গিয়েছে।

’৭১ সালে তিনি বন্দিদশায় ছিলেন এবং তাঁর প্রথম সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম সে সময়। সে সময় পাকিস্তানী ক্যাম্পে নিয়ে মেয়েদের অত্যাচার করার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন মেয়েরা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিশুরা বেশি ক্ষাতগ্রস্ত হয়, তাদের মানবাকিার লঙ্ঘিত হয় ঐ যুদ্ধের সময়।
তিনি বলেন, এজন্য যুদ্ধ চাই না। আমি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান জানাবো, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করুন। তাদেরকে উস্কানি দেয়া বন্ধ করুন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তি চাই। কেবল কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে আমরা বের হয়ে আসছিলাম সেখানে এই য্দ্ধু আর স্যাংশন আমাদের সকল অগ্রযাত্রা নষ্ট করছে। উন্নত দেশগুলোও আজকে হিমসিম খাচ্ছে, কতভাগ বিদ্যুতের দাম তারা বাড়িয়েছে। আমরা বাংলাদেশ এখনও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সেজন্যই আমি সকলকে আহ্বান জানিয়েছি যার যেটুকু জমি আছে চাষ করেন বা উৎপাদন করেন। আমরা উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদেরটা নিজেরা খাব কিন্তু করো কাছে হাত পেতে চলবো না, যদিও আমাদের সম্পদ কম।