ভারত-বাংলাদেশ পরীক্ষিত সম্পর্ক বৈরিতার দিকে ধাবমান 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ভারতে বাংলাদেশি মিশনে হামলার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সমস্যাগুলি পৃথকভাবে চিহ্নিত করে বিবরণ দেওয়া হল:

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা: ৫ আগস্ট ২৪’ পরবর্তী ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত শেখ হাসিনার বিদায়ের ফলে একটি অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।প্রসঙ্গত বংবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের অনুভূত সমর্থন বাংলাদেশী জনগণের কিছু অংশের মধ্যে ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে-যেটা অস্বীকার করা যায় না। তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়কে ইস্যু করেই এই ক্ষোভকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে, শেখ হাসিনার সময়কার শাসনামলের সময়ে মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা আর সাম্প্রতিক নিরাপত্তাহীন’ সমগ্র দেশের পরিস্থিতি স্পষ্টত দৃশ্যমান ।

উল্লেখ্য,শেখ হাসিনার বিদায়ের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ঢাকায় তার কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে এনেছে। 

 

বিদ্যমান বাস্তবতাঃ 

উভয় দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের প্রতি আচরণ নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। ভারতে বাংলাদেশি মিশনে হামলার ঘটনা এই উত্তেজনা আরও তীব্র করেছিল। যা এখনো বিদ্যমান।

অবকাঠামো প্রকল্প:ভারত বাংলাদেশে রেলওয়ে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সহ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই প্রকল্পগুলি এখন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। 

 

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা:দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে, ভারত আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করছে। 

উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে। এর মানে হল, বাংলাদেশ ভারত থেকে যত বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে, তার চেয়ে কম পরিমাণে পণ্য ভারতে রপ্তানি করে। 

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা একটি দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। একটি বাণিজ্য ঘাটতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, একটি বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করতে পারে। 

 

ঐতিহাসিক সম্পর্ক:১৯৭২ সালের বন্ধুত্ব চুক্তি সহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এই বন্ধনে উল্লেখযোগ্যভাবে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। 

এই অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। 

সামগ্রিকভাবে, পরিস্থিতি জটিল, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তার কারণগুলির সমন্বয় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মুল কারণ হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।