দেশজুড়ে পাড়া-মহল্লায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে ,উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কুকুর নিধন অভিযান বন্ধ 

ফাইল ছবি।

 

 নিউজ ডেস্কঃ

দেশজুড়ে পাড়া-মহল্লায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। যার ফলে মানুষজন কুকুরের কামড়ে আহত হচ্ছেন।সেই সাথে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ছে। কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নির্বীজকরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

এই বেওয়ারিশ কুকুর এখন একটি ভীতিকর সামাজিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। শহর থেকে শুরু করে পুরো জেলাতেই কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু।

 

অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, “দেশের উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কুকুর নিধন অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।”

 

তবে বলে রাখা প্রয়োজন,

দেশের উচ্চ আদালত ২০১২ সালে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনকে অমানবিক উল্লেখ করে তা বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং বিকল্প হিসেবে কুকুর নিধন না করে বন্ধ্যাত্বকরণ বা বন্ধ্যাকরণ (প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করা) করে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে, নির্বিচার কুকুর নিধন বন্ধ হয়ে যায়, যদিও এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কুকুর নিধনের পরিবর্তে বিকল্প কোনো কার্যকর সমাধান না থাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে।

 

আদালতের নির্দেশনার কারণ:

অমানবিকতা: উচ্চ আদালত বেওয়ারিশ কুকুর নিধনকে অমানবিক বলে আখ্যায়িত করে।

বিকল্প ব্যবস্থা:

বন্ধ্যাত্বকরণ:
আদালত কুকুর নিধনের পরিবর্তে বন্ধ্যাত্বকরণ বা বন্ধ্যাকরণ (Sterilization) এর মাধ্যমে কুকুরদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেয়।

সরকারি প্রকল্প:
সরকার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুকুরদের বন্ধ্যাত্বকরণ প্রকল্প হাতে নেয় এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এমন একটি প্রকল্প চালু আছে বলে জানা গেছে।

প্রভাব:

কুকুর নিধন বন্ধ:
আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

কুকুর সংখ্যা বৃদ্ধি:
এই কারণে, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও সংখ্যা বাড়ছে এবং জলাতঙ্ক টিকার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

 

বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক হারে কুকুরের বংশবিস্তার ঘটছে।পাশাপাশি নগর ও গ্রামের অলিতে-গলিতে দলবদ্ধভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা বেড়েছে। যা পথচারী এবং শিশুদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে।

 

প্রতিদিন কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে । যে জন্য জলাতঙ্ক রোগের টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাড়া-মহল্লাগুলোতে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং রাতের বেলা রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

 

অসমর্থিত সুত্র বলছে,প্রাণী বিশেষজ্ঞরা কুকুরের প্রজনন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন । যা এই উপদ্রব কমাতে সাহায্য করবে। কুকুর নিধন বন্ধ থাকা ও সময়মতো প্রতিষেধক না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে, তাই এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।