সচেতন তারুণ্যই আগামী বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি, যারা প্রযুক্তি ও মেধার
জোরে দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। যাদের হাত ধরেই নির্ধারিত হবে আগামী
দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে। তাদেরকে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগ্ল-
সব ক্ষেত্রেই ঘটাতে হবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে
চলতে হলে তরুণদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন
বাস্তব দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ- নৈতিক মূল্যবোধ। একটি জাতি তখনই টেকসই উন্নয়ন অর্জন
করতে পারে, যখন তার মানবসম্পদ দক্ষতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হয়। তথ্যপ্রযুক্তি,
ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে
অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের এগোতে হবে। তাদেরকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে
নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান
রাখতে হবে। জনউদ্যোগ,খুলনার কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সভায়
বক্তারা এসব কথা বলেন।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জনউদ্যোগ,খুলনার উদ্যোগে খুলনা
আর্ট স্কুলে সচেতন তারুণ্য,আগামীর বাংলাদেশ: প্রযুক্তি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ
শ্লোগানকে সামনে রেখে জনউদ্যোগ কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী
সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ যুব সেলের আহবায়ক জয়
বৈদ্য। সভা পরিচালনা করেন জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ
সেন।আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী সভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার
বাসতবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাড: মোমিনুল ইসলাম, নাগরিক নেতা সরদার
আবু তাহের, খুলনা আর্ট স্কুলের পরিচালক বিধান চনদ্র রায়,নারী নেত্রী কৃষ্ণা
দাস। সেরা ১২ তে যারা জায়গা করে নিল তারা হলেন-মাহাদীন আহমেদ সাজিন, দীপ
কুমার বৈদ্য, রিতু কুমার বৈদ্য, অর্পন সাধু স্বপ্ন, ত্রিবেনী রায় মৌনতা , তানিশা
নুসরাত, বিন্যাস রায়, নাইমুর রহমান সোহান, ইন্দ্রানী অধিকারী, মারুফ
বিল্লাহ,রাকেশ মন্ডল, কুশল হালদার। নগরীর বিভিন্ন কলেজের প্রায় শতাধিক
শিক্ষার্থী অঙশগ্রহণ করে।
বক্তারা বলেন, তরুণরা বেকারত্ব, হতাশা, সুযোগের অভাব এবং দিকনির্দেশনার
সংকটে ভুগছে। আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও
দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উদ্ভাবনীমুখী করা প্রয়োজন। তরুণদের
সামনে কিছু গুরুতর সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মাদকাসক্তি, অতিরিক্ত
ডিজিটাল আসক্তি, হতাশা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং মূল্যবোধের সংকট অনেক
তরুণকে বিপথগামী করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়,
তুলনামূলক জীবনযাপনের চাপ এবং মানসিক অস্থিরতা তাদের উৎপাদনশীলতাকে
ব্যাহত করছে। এই সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বক্তারা আরো বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র- সবাই একসঙ্গে
কাজ করতে হবে। পরিবার সন্তানদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং
তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র
একাডেমিক জ্ঞান নয়, জীবনদক্ষতা, নৈতিক শিক্ষা, নেতৃত্বগুণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য
বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা
শুধু জ্ঞানদানকারী নন, বরং ভবিষ্যৎ নাগরিক গঠনের কারিগর। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো
তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা
সম্প্রসারণ করা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন ও সহায়তা নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক পরিবেশ
তৈরি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
তরুণদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
যদি এই তরুণ শক্তিকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়- দক্ষতা, নৈতিকতা ও
মানবিকতার সমন্বয়ে- তবে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং
মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোনো স্বপ্ন নয়; সঠিক
দিকনির্দেশনা পেলে তা বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে, আর সেই বাস্তবতার মূল
নির্মাতা হবে আজকের তরুণ। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির