খুলনাবাসীকে সমৃদ্ধ নগরজীবন উপহার দিতে কেসিসি বদ্ধপরিকরঃ খুলনা সিটি মেয়র 

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, খুলনাবাসীকে
সমৃদ্ধ নগরজীবন উপহার দিতে কেসিসি কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। সেদিকে লক্ষ্য রেখে
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে
বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। আমরা
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরবাসীর আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাই। সিটি
মেয়র বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন আমাদের সকলের আকাক্সক্ষা। কিন্তু কাঙ্খিত উন্নয়ন
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে পরিমাণ জায়গার দরকার তা অনেক ওয়ার্ডে নেই। সে
জন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা বর্ধিত করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন
জানানো হয়েছে। আরো দুইটি থানা এলাকা কেসিসি’র অন্তর্ভুক্ত হলে সে সকল
জায়গায় পরিকল্পিতভাবে খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র, কবরস্থান, শ্মশান ইত্যাদি
নির্মাণ করা হবে।
সিটি মেয়র আজ রবিবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে
কেসিসি’র ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান
অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রূপান্তর-এর ‘সুশাসন
উন্নয়নে জন সম্পৃক্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের
সহযোগিতায় নাগরিক ফোরাম-খুলনা এ সভার আয়োজন করে।
নাগরিক ফোরাম-খুলনার আহবায়ক রফিকুল ইসলাম খোকন-এর সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের
সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ জাকারিয়া।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র নাগরিক ফোরাম কর্তৃক উত্থাপিত
বিভিন্ন নাগরিক চাহিদা প্রসঙ্গে বলেন, খুলনার উন্নয়নে কেসিসি বিপুল
কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। চলমান প্রকল্পসমূহ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর প্রায় সকল
চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বর্ষা মওসুম শেষ হবার সাথে সাথে ময়ূর
নদী খননসহ আরো কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তিনি নগরীতে নতুন নতুন
বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন কেসিসি খুলনা নগরীকে নান্দনিকভাবে
সাজাতে চায়। নগর এলাকা বর্ধিত হলে বর্ধিত অংশে অপূর্ণ থাকা সকল চাহিদা
পূরণের লক্ষ্যে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
সিটি মেয়র বলেন নগরবাসীর চাহিদার আলোকে অতিসত্ত্বর আধুনিক সিটি
সেন্টারসহ পাবলিক হল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। হতে গোনা কয়েকটি
ওয়ার্ডে জায়গার অভাবে ওয়ার্ড অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা
সম্ভব হয়ে উঠেনি। সেসব ওয়ার্ডে জায়গা ক্রয় করে ওয়ার্ড অফিস নির্মাণ
করা হবে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধানের জন্য রূপসা নদী ও ভৈরব নদী
খননের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আগামীতে কেসিসি এ সকল বিষয়ে
প্রকল্প গ্রহণ করবে। পাশাপাশি মহানগরী এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যে
বাইশটি খাল রয়েছে সেগুলিও খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি ড্রেনের সাথে
বাড়ীর সেপটিক ট্যাংকির সংযোগ নিজ উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন করে স্বাস্থ্যসম্মত
পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য এ্যাড. মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনু, কাউন্সিলর
শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, শেখ মোঃ গাউসুল আজম, মোঃ আনিছুর রহমান
বিশ্বাস, শেখ মোহাম্মদ আলী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার
তাজুল ইসলাম, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, নাগরিক
নেতা শাহিন জামান পন, সৈয়দ আলী হাকিম, মোঃ শাহজাহান হাওলাদার প্রমুখ
সভায় বক্তৃতা করেন। সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন নাগরিক ফোরাম-খুলনার সদস্য
সচিব এ্যাড. সেলিনা আক্তার পিয়া। কেসিসি’র কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের

কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ও নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ
সভায় উপস্থিত ছিলেন। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির