ইউরোপ বুঝতে পারছে-” যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের বন্ধু নয়”

নিউজ ডেস্কঃ

ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর থেকে ইউরোপের সরকারগুলোকে নিজেদের বোঝাতে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে মিত্রতা, তা ঠিকঠাকই থাকবে।

তারা মার্কিন সরকারের শুল্ক ও নানা অপমান হজম করেছে; ট্রাম্পকে বিভিন্ন উপহার দিয়েছে; তোষামোদ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে একটি কথাও বলেনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র আর মিত্র নাও থাকতে পারে— এমন একটা ধারণা তাদের ভেতরে ভেতরে ঠিকই ছিল।

 

এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ইউরোপের নেতাদের মধ্যে এই ধারণা পোক্ত করেছে যে, ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র এখন বাস্তব অর্থেই তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গেল ডিসেম্বরে ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ইউরোপ ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তির’ মুখে রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সঙ্গে বলা হয়, ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি ‘দেশপ্রেমিক’ দলগুলোর প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে। অনলাইন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অবজারভার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলেছে, ওই কৌশলপত্রের মাধ্যমে ইউরোপের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

 

এর মধ্যে ডনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার জন্য গো ধরলে দুই পক্ষের দূরত্ব অবধারিত হয়ে ওঠে।

 

গত কয়েক দিনে ইউরোপের নেতারা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন এবং গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাম মুখে আনা থেকে বিরত রয়েছেন।

অন্যদিকে শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের আট দেশকে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্কের মুখে পড়তে হবে।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এ ঘোষণার মুহূর্তেই ইউরোপের নেতাদের উচিৎ ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে সম্পর্কের ইতি টানা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ ইতোমধ্যে এমন এক বিশ্বের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ন্যাটো— এই ধারণা ইউরোপ এখন সক্রিয়ভাবেই বিবেচনা করছে।