নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার পেশাদার ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে প্রতিটি বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ও সময়োপযোগী যুদ্ধ অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন,“আমরা প্রতিটি বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক এবং সময়োপযোগী যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহ করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদার ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। ”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৮৩তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্সের কমিশন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২’ এ যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে আমরা সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং বরিশালে ৭ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। গত ৪ বছরে বিভিন্ন ফরমেশনের অধীনে ৩টি ব্রিগেড এবং ছোট-বড় ৫৮টি ইউনিট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সম্প্রতি মাওয়া-জাজিরাতেত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেখ রাসেল সেনানিবাস এবং মিঠামইন, রাজবাড়ী ও ত্রিশালে নতুন সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আর্মি এভিয়েশনের ফরোয়ার্ড বেস এবং লালমনিরহাটে এভিয়েশন স্কুল নির্মাণের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীতে নতুন কম্পোজিট ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড যুক্ত করেছি। প্রতিটি বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক এবং যুগোপযোগী অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি আপনাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর কাক্সিক্ষত কমিশনপ্রাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
তিনি বলেন, আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আপনাদের উপর ন্যস্ত হলো দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আপনারা যথাযথভাবে পালন করবেন বলে আমি মনে করি।
শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে ক্যাডেটদের আগামীতে এগিয়ে যাওয়ায় তিনি১৯৭৫ সালে জাতির পিতার বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে পাসিং আউটে ক্যাডেটদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দেন তাঁর উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন,“আমি তোমাদের জাতির পিতা হিসাবে আদেশ দিচ্ছি, তোমরা সৎ পথে থেকো, মাতৃভূমিকে ভালো বেসো। ন্যায়ের পক্ষে দাড়াবা, গুরুজনকে মেনো, শৃঙ্খলা রেখো, তা হলে জীবনে মানুষ হতে পারবা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমি আশাকরি আমাদের নবীন ক্যাডেটরা এই কথা মনে রেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের ওপর দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি জাতির পিতার রেখে যাওয়া পররাষ্ট্র নীতির প্রসংগে বলেন, আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাইনা। জাতির পিতাই বলে গেছেন সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এবং আমরা তা যথাযথভাবে মেনে চলেই আমাদের দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রুপান্তর করে যান। আজকে আমি অন্তত এইটুকু বলতে পারি আমরা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়ন করেছি এবং সেই সাথে বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির করে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীণতার সুবর্ণ জযন্তী উদযাপন করেছি এবং সে বছরই বাংলাদেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তাঁর সরকার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি নতুন কমিশন প্রাপ্ত ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, আজকের যারা নবীন অফিসার তারই হবেন আমাদের ‘৪১ এর সৈনিক এবং তারাই এই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেকে গড়ে তুলবেন। লক্ষ্য স্থির রেখে আমরা এগিয়ে যাব। তথ্যঃ বাসস।
প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে আরও বলেন, আজ তোমাদের সুসজ্জিত, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ জন্য তোমাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। নবীন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং আজকের প্যারেডকে সামগ্রিকভাবে সাফল্যম-িত করার জন্য আমি একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশ মাতৃকার সেবায় তাঁদের সন্তানদের দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা বিএমএতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া অমূল্য ও দূরদর্শী ভাষণটি প্রচার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (এআরটিডিওসি) এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার এবং ২৪ তম পদাতিক ডিভিশন জিওসি এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে সুসজ্জিত অভিবাদন মঞ্চ থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং চিত্তাকর্ষক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
খোলা জীপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে উত্তীর্ণ ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
সার্বিক বিষয়ে চৌকষ সাফল্যের জন্য ৮৩ তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার লাবিব জোহাইর নূর আনান প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সেনাবিষয়ে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য এসএম জহিরুল ইসলাম নিলয় ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।