ফাইল ছবি।
নিউজ ডেস্কঃ
শেখ হাসিনা সরকারের পতন ১৫ মাসের বেশী হয়েছে। ইউনুস সরকারের ঘোষিত জাতীয় নির্বাচন ২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে শোনা যাচ্ছে । বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতায় সংকটপন্ন অবস্থায় বর্তমানে রয়েছেন। কিন্ত তারেক রহমান এখনো পর্যন্ত লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে পারছেন না কেন?
দৃশ্যত বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করলে,তারেক রহমানই দলীয় নেতা হিসাবে
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন । তবে এ ক্ষেত্রে কথা থেকে যায়, বাংলাদেশে সরকার গঠনে আমেরিকা যুক্তরাজ্য ইউরোপ কিংবা পাশের দেশ ভারতের সমর্থন পরোক্ষভাবে কাজ করে থাকে বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করে থাকেন। সে প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার সংকটপন্ন অবস্থায় এখনও দেশে আসতে পারেন নাই। ইউনুস সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরেই,তার নামে সকল মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। অর্থাৎ তিনি মুক্ত।কিন্ত দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতা কেন?
এ বিষয়ে পর্যালোচনা করলে, বিষয়টি পরিস্কার হতে পারে। অনলাইন।
অনেকেই মনে করছেন,
বাংলাদেশ সরকারের পালাবদলে বিদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ইউনুস সরকারের আমলে কি তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আসলে কোন দিক থেকে কোন সমর্থন পাচ্ছেন না? বাংলাদেশে ১/১১ এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সে সময়কার যে রাষ্ট্রদূতেরা । আর তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তারেক রহমানের প্রতি অত্যন্ত একটা বিরোধিতা সম্পন্ন অভিমত স্থান পায়।
রাষ্ট্রদূতেরা ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারিকে থমাস, বিউটেনি্ গীতাপাঠে , জেমস এফ মরিয়ার্টি এলেন । ২০১৮ সালে এরা প্রত্যেকে তারেক রহমান সম্পর্কে ভয়াবহ সব তারবার্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন ।
বাংলাদেশের সুশীল সমাজ,বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে আলাপের পরে তারা তারেক রহমান সম্পর্কে যেসব দুর্নীতির সন্ত্রাসবাদ এর সঙ্গে জড়িত থাকার সব অভিযোগ পর্যালোচনা করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র তারেক রহমানকে ‘সন্ত্রাসবাদ এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা বিপদজনক ব্যক্তি হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন। সেসব উইকিলিকস যখন ফাঁস হয়ে গেল, তখন প্রকাশ পেয়ে যায় ২০০৮ সালের নভেম্বরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টিসহ
তিন রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে দেশটির অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এর অধীনে কয়েক ডজন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন ।
তারা তখন বলেছিলেন যে, “তারেকের প্রকাশ্য দুর্নীতির মার্কিন মিশনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে । এছাড়া আরও বলা হয়, আইনের শাসনের প্রতি তারেক রহমানের স্পষ্ট অবজ্ঞা সন্ত্রাসবাদীদের বাংলাদেশ পা রাখার জন্য শক্তিশালী জায়গা তৈরি করেছে । সে সঙ্গে দারিদ্রকে বাড়িয়ে তুলেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে । সর্বোপরি বাংলাদেশের যা কিছু অন্যায় অবিচার ঘটছে তার বেশিরভাগ জন্য তারেক এবং তার সহযোগীদের দায়ী করা যেতে পারে । সে কারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির পরামর্শ ছিল যে, “তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার শক্ত অবস্থান প্রকাশ করে ২০০৮ সালের নভেম্বরে।”
কিন্তু তারেক রহমান এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় নিয়েছেন । উল্লেখ্য,২০০৮ এর সেপ্টেম্বর এসে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে আসেন ।তখন এটা জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র তখন যুক্তরাজ্য কেও সাবধান করে দিয়ে বলে যে, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় এবং রাজনৈতিক পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে যত্রতত্র ভোট পাওয়ার জন্য তাদের দক্ষতা এবং দুর্নীতিপ্রবণ সরকারও বাংলাদেশের সহিংস রাজনীতির এক দৃষ্টান্ত। যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখ করে যে, তারেক রহমানের শাসনামলে হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতায় যেমন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যেমন খুঁযে পায়।তেমনি তাদের মতে জঙ্গী সংগঠনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচিত হয়।
২০০৫ সালের ১৭ ই আগস্ট সারা দেশে জামায়াতের মুজাহিদীন বাংলাদেশ জেএমবি বাংলা জঙ্গী সংগঠনের উদ্ভব ঘটে। তারেক রহমানের আমলে সেই বাংলাভাইয়ের জেএমবির তৎপরতায় সারাদেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য মানবাধিকার গ্রাউন্ডে আশ্রয় দিয়েছে।যুক্তরাজ্যকে তারেক রহমান কোনোভাবেই যুক্তরাজ্যে কোন ভাবেই স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ না পায় ,সেজন্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের সেই ব্ল্যাক লিস্টের কথা মার্কিন প্রশাসন মনে করিয়ে দেয়। উল্লেখ্য,সেই ব্ল্যাক লিস্টের কথা মাথায় রেখে তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য কোন পাসপোর্ট দিতে পারে নাই ।পাশাপাশি তারেক রহমান এবার বাংলাদেশে গেলে তিনি যেমন আর কোনভাবেই যুক্তরাজ্যের যেতে পারবেন না । (চলমান)