।। পর্যালোচনা ।।
২০২৪ এর জুলাই আগস্টে Rivers Brain drain এর কথা সকলে শুনেছিলাম। আর এখন নেপাল, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ বাংলাদেশের নাগরিক ঢুকতে দিচ্ছে না। দলে দলে বাংলাদেশের প্রবাসে থাকা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দলে দলে ফিরে আসবে। সেরকম কিছু বিগত ১৪ মাসে ঘটতে দ্যাখা যায়নি ।
২৪ এর ৫ আগস্টের পর ফেসবুকে পোষ্ট হয়েছিল, ” আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় লোকটাকে কেউ ঠেকান ” অর্থাৎ নোবেল জয়ী ড. ইউনুস কে নিয়ে এমন ক্যাম্পেইন হয়েছিল। ঘটলোও তাই! করুণ দশা এমন যে, বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট এর জন্য বিশ্বের কোন দরজাই খোলা থাকছে না এক প্রকার ।
উল্লেখ্য ৫ আগস্ট ২৪ ার পর ভারতের টুরিস্ট ভিসা বন্ধ রয়েছে এখন পর্যন্ত । বিশ্বের যে সব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস আছে-সেসব দেশের দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছে (৮ আগস্ট ২৪’ এর পর থেকে)।
তথ্য মতে, মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। কারণ, সেখানে বিগত সময়ে বাংলাদেশে একদল শ্রমিক আটক হয়েছে। কারণ সরকারের বাংলাদেশের কর্মরত শ্রমিকদের ভিতর ইসলামিক স্টেট (আই এস) এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশসহ বিদেশী গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেমন -দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ” আইএসে জড়িত থাকার সন্দেহে মালয়েশিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশী আটক।শিরনামে (২৭ জুন,২০২৫) ” সংবাদ প্রকাশিত হয়।
একই দিন শুক্রবার (২৭ জুন) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্যও জানানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের কর্মরত শ্রমিকদের আই এস এ সম্পৃক্ততার বিষয়ে
বিবিসি বাংলায় বলা হয় –
” জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত তিন মাসে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করে মালয়েশিয়ার পুলিশ। আটককৃতরা বাংলাদেশ ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট বা আইএস সদস্যদের অর্থায়ন করতো বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।যাদের মধ্যে অনেকে কারখানা, নির্মাণ ও সেবাখাতে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল জানান, স্পেশাল ব্রাঞ্চ কাউন্টার টেররিজম ডিভিশন আটককৃতদের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে এবং অনুসন্ধান চালায়।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এই দলটি সিরিয়া ও বাংলাদেশে আইএসের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তহবিল যোগাড় করতো, বলেন মি. ইসমাইল।[৪ জুলাই ২০২৫ ]
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির দৈনিক দ্য স্ট্রেইটস টাইম জানিয়েছে, পর্যটন ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অন্যতম শর্ত হলো বৈধ হোটেল বুকিংয়ের কাগজপত্র সঙ্গে রাখা। ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিদের হোটেল বুকিং সন্দেহজনক ছিল; তারা এ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছিলেন না।
মালয়েশিয়াকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে অনেকে লিবিয়া হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের নানা দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট মানেই ‘সন্দেহ’, বন্ধ হচ্ছে ভিসা শিরোনামে ৭ অক্টোবর ২০২৫, বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঢাকা পোষ্টের রিপোর্ট করে।
সেই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়,
“একসময় ধারণা ছিল, যত বেশি দেশ ভ্রমণ করা যাবে এবং পাসপোর্টে যত বেশি দেশের ভিসা থাকবে, পাসপোর্ট তত বেশি ‘ভারী’ হবে। উন্নত দেশগুলো সহজে ভিসা দেবে। তবে, দিন বদলে গেছে। বর্তমানে সবুজ মলাটের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অধিকাংশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেরই যেন ‘অ্যালার্জি’। ভিসা দেওয়া তো দূরের কথা, যেসব দেশে ভিসা ‘অন-অ্যারাইভাল’ নিয়ম চালু আছে, সেসব দেশও বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে না দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ভিসা পেলেও অনেক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে ইমিগ্রেশনে নানা কারণে ‘অফলোড’ করে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
পাসপোর্টের গুরুত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার মতো পর্যটননির্ভর দেশগুলোও বাংলাদেশিদের বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া।
একসময় বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া ইন্দোনেশিয়া এখন সহজে ভিসা দিচ্ছে না। ভিসার জন্য অনেক নথিপত্র ও ফি প্রয়োজন হচ্ছে, তবুও ভিসা নিশ্চিত নয়। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারত নতুন করে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই করে কেবল মেডিকেল ভিসা দেওয়া হলেও সামান্য ত্রুটি পেলেই অফলোড করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুবাই ও আবুধাবির মতো মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশও নতুন করে ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টের ওপর যেন ভরসা পাচ্ছে না কেউই।
গনমাধ্যমে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়,
চলতি বছরের ১১ জুলাই ৯৬ জন, ১৩ জুলাই ১২৩ জন, ২৬ জুলাই ৮০ জন এবং আগস্ট মাসের এক দিনে সর্বোচ্চ ৯৮ জন বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে আটকে পরবর্তী ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও কাতারে বন্ধ রয়েছে ভিসা। ভারত আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া দিয়েছে কঠোর শর্ত।
চীনে ভিসা মিললেও বিমানবন্দরে যাচাই-বাছাইয়ে অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডে ভিসা পাওয়া গেলেও সময় লাগছে বেশি। মালয়েশিয়াতেও ইমিগ্রেশনে সন্দেহজনক মনে হলে পর্যটক ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।