ফিরে দ্যাখ্যাঃ [এক]২৪’এর ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটিত ঘটনা  

প্রসঙ্গঃ সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে সীমান্ত থেকে আটক পরবর্তী আদালত প্রাঙ্গনে মারধোর ও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে 

পরিচিতিঃ

 

আবুল হোসেন মোহম্মদ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক । যিনি বেশ কিছু বিতর্কিত মামলার জন্য পরিচিতি লাভ করেছেন। তাকে অবসর গ্রহণের পর মামলার রায় জমা দেওয়ার জন্যও সমালোচনা করা হয়েছিল। তার শেষ কর্মদিবসে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে তিনি বিদায়ী সংবর্ধনা পাননি।[  

ঘটনার বর্ণনাঃ 

সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আটক পরবর্তী ঘটনা ।

২৩ আগস্ট ২৪’ রাতে সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় সাবেক বিচারপতি মানিককে স্থানীয় লোকজন আটক করে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করে। বিজিবি শনিবার ভোরে তাকে কানাইঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার পর বিকালে সিলেটের আদালতে উপস্থাপন করার আগে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পরই বেদম মারধরের শিকার হন তিনি। 

 

গুরুতর আহত হওয়ায় সাবেক বিচারপতি মানিক কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে ভর্তি করা হয়। সাবেক এই বিচারপতির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে গনমাধ্যম জানায়।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জলিল কায়সার খোকন গনমাধ্যমকে জানান, সাবেক বিচারপতি মানিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারধরে তার শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই সাথে সাবেক বিচারপতি মানিকের অন্ডকোষ ছিঁড়ে গেছে।  পরে তা অপারেশন করা হয়। একই সঙ্গে তার শরীরে অনেক জখম ও কাটাছেঁড়া আছে, সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপও আছে।। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা চলছে।  সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাবেক বিচারপতির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। 

 

বিকাল সাড়ে ৪টায় শুনানি শেষে শামসুদ্দিন মানিককে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক আলমগীর হোসেন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পাহারায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে শুনানিকালে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। আসামি সাবেক এই বিচারপতি আদালতকে জানিয়েছেন তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ।  বিচারক সাবেক বিচারপতি মানিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

 

এছাড়া ‘সাবেক বিচারপতি হিসেবে জেল কোড অনুযায়ী আসামিকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।  

 

আদালতে আসামিদের মারধর, ডিম ও জুতা নিক্ষেপকারিদের আইনের আওতায় না আনায় দিন দিন এর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের আগে ঢাকায় আদালতে উপস্থাপনকালে মারধরের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদ, সাবেক সমাজ কল্যাণমন্ত্রী দিপু মনিসহ অনেকে।