নিউজ ডেস্কঃ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেছেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ‘অক্ষম’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অপরের ওপর দোষ চাপানো তাদের ‘অভ্যাস’।
খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনায় ‘ভারতের ইন্ধন’ থাকার যে কথা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সেটির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনায় ‘ভারতের ইন্ধন’ থাকার যে কথা
বলেছেন
আজ শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘ভারতের ইন্ধন’ সংক্রান্ত অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।
তিনি বলেন, “এ অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আপনারা জানেন এবং আমরা বিভিন্ন সময়ে এটা নিয়ে কথা বলেছি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম এবং নিয়মিতভাবে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা তাদের অভ্যাস।
“তাদের জন্য ভালো হবে, যদি তারা আত্মানুসন্ধান করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদীদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে।”
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল পার্বত্য এ জেলায়।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ শয়ন শীল নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায় ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এমন উত্তেজনার মধ্যে গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়, সেখানে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। এ সময় সেখানে বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পরে মারমা কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ বলে জানিয়েছেন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক।
এর মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ‘ভারতের ইন্ধন’ থাকার অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বর্তমানে সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি বড় উৎসব চলছে। এই উৎসবটাকে শান্তিপূর্ণ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই উৎসব ভালোভাবে, ধর্মীয় উদ্দীপনায় এবং উৎসবমুখরভাবে যাতে হতে না পারে, একটা মহল সেই চেষ্টা করছে।”
সেই ‘মহলই’ খাগড়াছড়িতে ঘটনা ঘটাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের পার্বত্য এলাকার উপদেষ্টা (সুপ্রদীপ চাকমা) ওই জায়গায় আছেন, তিনি বিষয়টি দেখছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের সাথে এবং স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলছেন। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে।”