যানজটমুক্ত সড়ক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবি নিসচা খুলনা নগর শাখার

ফাইল ছবি।

দুর্ঘটনা, যানজট ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঈদযাত্রায় সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবি জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখা।

সোমবার (২৪ মার্চ) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ দাবি জানান নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না ।

নিসচার নেতারা বলেন, রমজানে প্রচন্ড গরম, সঙ্গে তীব্র যানজট, স্থবির খুলনা নগরীতের হাঁসফাঁস করছে মানুষ। অসহনীয় দুর্ভোগে পথ চলা দায়। মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ আছে। কিন্তু যানজট নিরসন হচ্ছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজটে স্থবির থাকে নগরী। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গরমের তীব্রতা বাড়ায় মানুষের ভোগান্তি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

নিসচার নেতারা আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। ঈদে ফিটনেসবিহীন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস, ট্রাক, লেগুনা, টেম্পু, মাইক্রোবাস, কার, নছিমন-করিমন ও সিটি সার্ভিসের বাস-মিনিবাস দূরপাল্লার বহরে যাত্রীপরিবহনে নেমে পড়ে। মেয়াদউত্তীর্ণ নৌযান দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। রেলপথেও মেয়াদউত্তীর্ণ কোচ, ইঞ্জিন, রেলপথের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতির ঘটনায় প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যানজট ও ভোগান্তি তৈরি করে।

দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ আনফিট নৌযানের চলাচল বন্ধ করা, প্রতিটি নৌযানের লোডলাইন অনুযায়ী অতিরিক্ত যাত্রীবহন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। সবপথের প্রতিটি রুটে যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা বিধান করা, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা, ব্যবহার উপযোগী প্রয়োজনীয় শৌচাগারের ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিধান নিশ্চিত করা জরুরি। কিছু মানুষের স্বপ্ন আচমকা থমকে যায়, মুহূর্তে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কত স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে যায় ব্যস্ত সড়কে। মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রধান অন্তরায় যেন সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা খুব ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে, এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। ঈদ আসলে তা বেড়ে যায় অনেক মাত্রায়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন আছে। এ আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা সবার কাছে এক আতঙ্কের নাম। সড়কের মড়কে খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বাসা থেকে বের হলেই পথে পথে ছিনতাই, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টিসহ যেকোনো দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও বেশি কার্যকর হতে হবে। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির