খুলনায় বিশ্ব মেডিটেশন দিবস পালিত

খুলনা মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ শিশু পার্ক, সোনাডাঙ্গা
সোলার পার্ক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কুয়েট ক্যাম্পাস, রূপসা ব্রিজ
চত্ত্বরসহ ১০টি উন্মুক্ত স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো বিশ্ব মেডিটেশন
দিবস। গতকাল সকাল ৬টায় এসব স্থানে সমবেত হন শতশত ধ্যানী। ‘ভালো মানুষ,
ভালো দেশ, স্বর্গভূমি বাংলাদেশ‘’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ধ্যানীরা ধ্যান করেন। প্রত্যয়
ব্যক্ত করেন- ‘ভালো ভাবব, ভালো বলব, ভালো করব, ভালো থাকব‘। আশাবাদ ব্যক্ত করেন,
মেডিটেশন চর্চার মধ্য দিয়ে সুস্থতা ও প্রশান্তির বাণী সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার। এর
মাধ্যমে আমারা একদিন রূপান্তরিত হব সুস্থ সবল কর্মদ্যোমী ও সমমর্মী এক
জাতিতে।
সারা দেশের ন্যায় মঙ্গলবার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন খুলনা শাখার উদ্যোগে ১০টি
উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হয় বিশ্ব মেডিটেশন দিবস। এতে অংশ নেন
চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিনীসহ নানা পেশার
নানান বয়সী মানুষ। এসময় প্রাণায়াম চর্চা, আলোচনা আর মেডিটেশন করেন
ধ্যানীরা।
আমাদের দেশে দিন দিন বাড়ছে মেডিটেশনের জনপ্রিয়তা। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকরা বহুদিন ধরেই মেডিটেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। পরিপূর্ণ
সুস্থতার জন্যে বিদ্যমান চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন মেডিটেশন।
প্রেসক্রিপশনে এমন পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি
যোগ-মেডিটেশনকে স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছে। এ
উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের চিকিৎসক মহল।
বিশ্বজুড়ে এখন প্রায় ৫০ কোটি মানুষ নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন করেন।
শারীরিক মানসিক সামাজিক ও আত্মিক অর্থাৎ টোটালি ফিট থাকতে
মেডিটেশন বা ধ্যানের কার্যকারিতা এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রমাণিত।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান বিশ্বে সংক্রামক ব্যাধির
চেয়ে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপই বেশি। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ,
ডায়াবেটিস, মেদস্থূলতা, বিষণ্ধসঢ়;নতা, অনিদ্রা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, স্ট্রেস ইত্যাদির
ফলে মৃত্যুর হার ক্রমশই বাড়ছে। এসব অসুস্থতা থেকে মুক্ত থেকে সুস্থ কর্মক্ষম
জীবন পেতে সচেতন মানুষ তাই ঝুঁকছেন এখন লাইফস্টাইল বা জীবনধারা
পরিবর্তনের দিকে। আর লাইফস্টাইল পরিবর্তনের একটি বড় উপাদান হলো, দৈনন্দিন
জীবনে মেডিটেশন বা ধ্যান চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট ধ্যানচর্চা হতে পারে প্রশান্ত ও সুস্থ জীবনের পথে
একটি উল্লেখযোগ্য অনুঘটক। সাথে বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস, যোগ ব্যায়াম,
শারীরিক পরিশ্রম, ভালো ঘুম, ইতিবাচক চিন্তা, হাসি ইত্যাদি যুক্ত হলে তো
কথাই নেই। অসংক্রামক ব্যাধির দৌরাত্ম্য কমে যাবে। বেড়ে যাবে মানুষের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা, কর্মক্ষমতা ও প্রাণচাঞ্চল্য। ফলে সাশ্রয়ী হবে চিকিৎসা ব্যয়। যা
ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ফেলবে ইতিবাচক প্রভাব।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে ২১ মে বিশ্ব মেডিটশন দিবস উৎযাপন করে আসছে
আত্মউন্নয়ন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির