২৪শে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের কৌশলগত স্থপতি হিসেবে আবির্ভূত ড. ইউনূস

 নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশে ২৪শে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের কৌশলগত স্থপতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ।

 

পথনির্দেশক নীতি

ড. ইউনূস কর্তৃক প্রচারিত তিনটি মূল নীতি এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলঃ

 

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার – অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা। জনশ্রুত আছে – একজন সামাজিক ব্যাবসায়ি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে দেশের একটি রাজনৈতিক দলকে দমন -পীড়ন এর আগ্রাসী দায়িত্বে নেমেছেন।যা ইতিমধ্যে দেশব্যাপী সর্বজনবিদিত ।  

 

বিচারিক স্বাধীনতা – রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানাবিধ সমালোচনা -তর্ক – বিতর্ক রয়েছে। 

 

মত প্রকাশের স্বাধীনতা – সাংবাদিক, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের নির্যাতন থেকে রক্ষা করা। ইউনুস সরকারের আমলে  তিন দফায় মোট ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল ।

এক পরিসংখ্যানে দ্যাখা যায় — সাংবাদিকদের ওপর মামলার একটি তালিকা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। সেই সঙ্গে ডেইলি স্টারের নিজস্ব তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে গত বছরের জুলাই ও আগস্টের ঘটনা-সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় কমপক্ষে ২৬৬ জন সাংবাদিককে জড়ানো হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ঢাকায় – ৮৮টি। সিলেট ও চট্টগ্রামে যথাক্রমে ৩৯ এবং ৩৬ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বগুড়ায় ১০ থেকে ২০ জন করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, নড়াইল, পটুয়াখালী, ঠাকুরগাঁও, বরিশাল, মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, পিরোজপুর এবং নেত্রকোনা সহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও সাংবাদিকরা জুলাই-আগস্টের সহিংসতা সম্পর্কিত হত্যা বা অন্যান্য মামলায় আসামি হয়েছেন। 

গণমাধ্যম এক অর্থে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বলে দেশের অগনিত মানুষের অভিমত। যেসব তাদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টসহ বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি উঠে এসেছে ।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা-

এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ,বিচারিক স্বাধীনতা্‌ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনটির বেলায়ই  ড. ইউনুসের সরকার কোন ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারেনি বলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে মনে করছেন। 

অনেকে মনে করছেন, ইউনূসের তড়িঘড়ি নির্বাচন ঘোষণা,ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এ আয়োজন  । 

জাতির প্রশ্ন এ কেমন অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন?

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকে আশংকা করে পোস্ট করছেন – “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ১৫ ফেব্রুয়ারি (১৯৯৬)-এর মতো একতরফা ভোটের ইতিহাস রচিত হতে চলেছে।” 

“এই সরকারের সঙ্গে আপস নয়। যারা দেশের স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দিচ্ছে, যারা গুম-খুনকে রুটিন করে তুলেছে, যারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে দখলদারিত্বের মডেলে চালাচ্ছে”।

“বাংলাদেশের মানুষের চোখে এখন সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ” 

” সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের ভান করে, রক্তাক্ত মঞ্চ সাজানো হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে যাকে বলা হচ্ছে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’। “