রামপালের এক জনপ্রতিনিধির হাতে একজন নারী নির্যাতনের শিকার

 

বাগেহাটের রামপালে এক জনপ্রতিনিধির হাতে হাওয়া বেগম (৪০) নামের এক
নারী শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নির্যাতিতা ওই নারীকে উদ্ধার করে
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি
এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের রোমজাইপুর গ্রামের হাওয়া
বেগম ও তার ছেলে শেখ রোমেল আহমেদের বিরুদ্ধে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে একই
গ্রামের মো.আলম ও মুকুল শেখ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাওলাদার রফিকুল ইসলাম
বাবুলের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি গত
১০ অক্টোবর হাওয়া বেগমকে গ্রাম পুলিশে দিয়ে ইউনিয়র পরিষদে ডেকে আনেন।
এরপর তিনি হাওয়া বেগমকে তার ছেলে রোমেলকে হাজির করার নির্দেশ দেন।
হাওয়া বেগম তার ছেলেকে হাজির করতে না পারলে উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যান বাবুল
এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করে আবারো ছেলেকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে তাকে
পরিষদের একটি কক্ষে তালা দিয়ে তিন ঘন্টা আটক রাখেন। ওই সময়ের মধ্যে তার
ছেলেকে হাজির করতে না পারায় চেয়ারম্যান আবারো তাকে মারধর করেন। এতে
তিনি অঞ্জান হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা
হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হাওলাদার রফিকুল ইসলাম বাবুলের কাছে জানতে
চাইলে তিনি বলেন ওই মহিলার ছেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিং এর অভিযোগ ছিল।
আমি এজন্য ওই মহিলা ও তার ছেলেকে পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য চৌকিদার দিয়ে
খবর পাঠাই। এখানে এসে ওই মহিলা বেশ কিছু আপত্তিকর কথা বলেছে। এ সময়
আমার পরিষদের একজন চৌকিদার লাঠি দিয়ে তাকে কয়েকবার আঘাত করেছে।
এছাড়া আর কোন ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী ওই নারী হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন বাবুল চেয়ারম্যান আমার
ছেলেকে হাজির করতে বলেন্ধসঢ়;। আমি হাজির করতে না পারায় আমাকে আটক রেখে
তিনি আমাকে এলোপাতাড়ি ভারে মারধর করেছে। এঘটনার পর তার ভাই শেখ আবেনুর
রহমান প্রতিবাদ করে রামপাল সদর েেমাহাম্মাদিয়া মার্কেটি গত ১২ অক্টোবর এক
সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবী করেন।
এ ব্যাপারে রামপাল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন জানান, তার কাছে
অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তাধীন আছে। তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া
হবে। তিনি আরও জানান শুনেছি এ ঘটনা নিয়ে আদালতেও একটি মামলা
হয়েছে। উল্লেখ্য অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইতোপুর্বে প্রাথমিকের এক

শিক্ষিকা, একজন ড্রেজার চালককে মারধর , সাবেক ইউএনও জিল্লুর রহমানের সাথে
দুর্বাবহারসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার জন্ম দিয়ে একাধিকবার জেলও
খেটেছেন। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির