নিউজ ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মুসলমান ও দক্ষিণ এশীয় নেতা নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচিত হলো।
মামদানির বিজয়ের বিষয়টি অনেকটা আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। নির্বাচন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে আগেভাগেই উৎসবের আয়োজন শুরু করেছেন মামদানির সমর্থকরা। যেখানে বিপুল সংখ্যক সমর্থক আর ভোটারদের জড়ো হয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে।
ব্রুকলিন প্যারামাউন্ট থিয়েটার যেখানে নির্বাচন উপলক্ষে রাতের পার্টির আয়োজন করেছেন জোহরান মামদানি। উৎসবের আমেজে অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
এদিকে মামদানির বিজয় পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে উপস্থিত হয়ে ভিড়ের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। এছাড়া এই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টিস স্লিওয়া এরই মধ্যে মামদানিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে সমর্থকদের একটি দলকে স্লিওয়া বলেন, আমাদের একজন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অবশ্যই আমি তাকে শুভকামনা জানাই, কারণ তিনি যদি ভালো করেন, তাহলে আমরাও ভালো করব।
নির্বাচন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত ওয়াচ পার্টি এবং বারগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। ম্যানহাটনের একটি ওয়াচ পার্টি, যারা কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেখানে মামদানির জয়ের আলোচনায় কয়েক দফা করতালি, চিৎকার এবং উল্লাস করতে দেখা গেছে।
একজন ব্যক্তি বললেন, এটা একটা বিরাট ব্যাপার। মধ্য ব্রুকলিনের একটি বারে, সাধারণ মানুষকে জোরে জোরে উল্লাস এবং হুররে বলতে শোনা গেছে। কারণ মার্কিন মিডিয়ার প্রাথমিক ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মামদানি ৫১ শতাংশ এবং কুওমো ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যম এক্স এ দেয়া এক পোস্টে সিটি বোর্ড অফ ইলেকশনস দাবি করেছে, পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার ভোটার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
পোস্টটিতে বলা হয়েছে, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মিলিয়ন ভোট পেয়েছি – ১৯৬৯ সালের পর প্রথমবারের মতো!
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যে কারণে এবারের নির্বাচন আরো বাড়তি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
এছাড়া মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সে, নিউ ইয়র্ক সিটির সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হওয়ার দৌড়ে থাকা বামপন্থি প্রার্থী জোহরান মামদানিকে ঘিরে বাড়তি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। নির্বাচন পূর্ব বেশিরভাগ জরিপেও এগিয়ে ছিলেন এই প্রার্থী।
জোহরান মামদানিকে ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প। মামদানিকে নির্বাচিত না করতে ভোটারদের সরাসরি আহ্বানও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ নিউ ইয়র্কে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়া জোহরান মামদানির জন্য নানা দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। ১৮৯২ সালের পর তিনি শহরের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হবেন। এছাড়া আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মুসলিম মেয়রও তিনি।