বিশ্ব মানচিত্রে নাম নেই দেশের ‘দূতাবাস’ ছিল ভারতে, গ্রেফতার ‘দূত’ পরিচয় দানকারীর নাম হর্ষবর্ধন জৈন

নিউজ ডেস্কঃ

 

ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গাজিয়াবাদ থেকে ভুয়া দূতাবাস চালানোর অভিযোগে মঙ্গলবার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম হর্ষবর্ধন জৈন। বছর ৪৮-এর ওই ব্যক্তি গাজিয়াবাদে একটা বাড়ি ভাড়া করে সেখান থেকেই ভুয়া দূতাবাস পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ।

 

ওয়েস্টার্কটিকা, সাবোরগা, পলভিয়া এবং লোডোনিয়ার মতো তথাকথিত ‘দেশের’ কনসাল বা রাষ্ট্রদূত বলে পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করতেন বলেও এসটিএফ-এর তরফে জানানো হয়েছে। মূলত দেশ হিসেবে এগুলোর স্বীকৃতি নেই।

 

এসটিএফ-এর নয়ডা ইউনিটের এসএসপি সুশীল ঘুলে সাংবাদিকদের বলেছেন, “ওই ব্যক্তি ওয়েস্টার্কটিকা, সাবোরগা, পলভিয়া, লোডোনিয়া এবং আরও কয়েকটা তথাকথিত দেশের দূত সেজে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করত।”

 

এর আগেও মি. জৈন পুলিশের নজরে এসেছিলেন, তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল বলে খবর।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১১ সালে মামলায় হর্ষ বর্ধন জৈন নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

বিষয়টাকে নিশ্চিত করেছেন এসএসপি সুশীল ঘুলে।

।। ওয়েস্টার্কটিকা ।।

 

হর্ষ বর্ধন জৈন নামে গাজিয়াবাদের ওই বাসিন্দা নিজেকে যে দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয় দিতেন তার মধ্যে একটা এই ওয়েস্টার্কটিকা।

 

 ওয়েস্টার্কটিকা আসলে একটা কাল্পনিক দেশ।

 

ওয়েস্টার্কটিকা নামে ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরির তৈরি একটা সংস্থাও রয়েছে।

একটা অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত যার লক্ষ্য পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

 

প্রসঙ্গত, ওয়েস্টার্কটিকার দূত হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মি. জৈনের গ্রেফতারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ওই সংস্থার পক্ষ থেকে একটা বিবৃতিও জারি করা হয়েছে।

 

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “মি. এইচ ভি জৈন ওয়েস্টার্কটিকাকে উদারহস্তে অনুদান দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে তার দেশে আমাদের পরিবেশগত ও দাতব্য মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবকদের দলে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাকে ‘অনারারি কনসাল টু ইন্ডিয়া’-র আনুষ্ঠানিক উপাধি দেওয়া হয়েছিল, কখনোই রাষ্ট্রদূতের পদ বা কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি।”

“জালিয়াতি এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য সম্প্রতি মি. জৈনকে গ্রেফতারের সময়, তার কাছ থেকে কূটনৈতিক নম্বর প্লেট, পাসপোর্ট এবং ওয়েস্টার্কটিকার সিলযুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে। একজন অনারারি কনসাল হিসেবে এই সমস্ত সামগ্রী তৈরির অনুমতি তার ছিল না।”

তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই সংস্থা। তথ্যঃ বিবিসি বাংলা ।।