বিদ্যুতের অযৌক্তিক মিটার রেন্ট ও ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে ( ভিআইপি লাউঞ্জ) অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অ্যাড: আ ফ ম মহসীনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের অন্যতম সদস্য মানবাধিকার সংগঠক নাগরিক নেতা এস এম দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব পরিবেশবিদ মানবতাবাদী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার। এসময়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ২০১৪ সালে প্রিপেইড মিটটা স্থাপনের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে ওজোপাডিকো ।যার অধীনে খুলনায় ২০১৫ সালে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রিপেইড মিটার স্থাপন কালে ওজোপাডিকো- র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিনামূল্যে এ মিটার স্থাপন করা হচ্ছে।এ বাবদ কোন মুল্য নেওয়া হবে না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করলাম যে, কিছুদিন যেতে না যেতেই সংস্থাটি মিটার প্রতি আবাসিক মিটারে মাসে ৪০ টাকা এবং বানিজ্যিক মিটারে ২৫০ টাকা হারে ভাড়া গ্রহণ করা শুরু করলো,যা গ্রাহকদের সাথে রীতিমতো মিথ্যাচার ও প্রতারনা। খুলনা নাগরিক সমাজ সহ অন্যান্যদের আন্দোলনের মুখে তত্কালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে অন্যান্য প্রতিশ্রুতির সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে, মিটারের মুল্য সমন্বয় হওয়ার পর আর কোন মিটার ভাড়া নেওয়া হবে না। আমাদের জানামতে মিটার স্থাপনের সময় আবাসিক মিটারের ক্রয় মূল্য ছিল ৩২০০ টাকা এবং বানিজ্যিক মিটারের মুল্য ছিল ১৪.০০০ হাজার টাকার মত। অথচ গত ৮ বছর যাবত উপরিল্লিখিত হারে মিটার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে,যা ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে । সংস্থাটি ইতিপূর্বে খুলনায় ৬১ হাজার আবাসিক এবং ২ হাজার বানিজ্যিক মিটার স্থাপন করেছে। এই বিশাল সংখ্যার মিটার থেকে লাগাতার ভাবে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া গ্রহণ করা হচ্ছে।যা শুধুমাত্র বাড়ির মালিকদের ই নয় সিংহভাগ ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে স্বল্প আয়ের মানুষকেই এর দায়ভার নিতে হচ্ছে।অন্যদিকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় সংস্থাটি পুর্বের এনালগ মিটার খুলে নিলেও তার জামানত/ বা মুল্য সমন্বয় করা হয়নি। পরিতাপের বিষয় এই ব্যাপারে সংস্থাটি নির্বিকার। সরকার একদিকে গ্রাহকের ব্যবহারিত বিদ্যুতের উপর ভ্যাট গ্রহণ করছে,যা সংবিধিবদ্ধ। অন্যদিকে বিদ্যুতের চার্জ বাবদ মোট চার্জ হিসেবে অর্থ নেওয়ার পর ও ডিমান্ড চার্জের নামে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা গ্রহণ করছে সংস্থাটি। যে বিষয়টি আমাদের নিকট বোধগম্য বা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনাদের অবগতির জন্য একটি চিত্র তুলে ধরা হলো।মোট চার্জ ২৫.১১%, ডিমান্ড চার্জ ১৬.৮%, ভ্যাট ৪.৭৬%, অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় গ্রাহকদের খরচ হচ্ছে ৪৬.৬৭ টাকা।এর উপর বাড়তি মিটার ভাড়া। একদিকে সরকারের ভ্যাট,যেটি প্রনিধানযোগ্য । অন্যদিকে মোট চার্জ, মিটার ভাড়া, আবার ডিমান্ড চার্জ। এই বিষয়টি আমাদের হতবাক করে। আপনাদের মাধ্যমে সংস্থাটির প্রতি মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহার, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় খুলে নেওয়া এনালগ মিটারের জামানত/ মুল্য ফেরত/ সমন্বয় করার আহ্বান জানাচ্ছি। চলতি মাসের মধ্যেই সংস্থাটি এ ব্যাপারে গ্রাহকদের সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।অন্যথায় দাবী পূরণে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা আহবায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সাধারন সম্পাদক সরদার আবু তাহের, সিপিবি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, খুলনা উন্নয়ন ফোরামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সিপিবি নেতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, খোদেজা ফাউন্ডেশনের খ ম শাহীন হোসেন,কবি ও উন্নয়ন সংগঠক নাজমুল তারেক তুষার, পরিবর্তন খুলনার সোয়াইব হোসেন বাবু, নারী নেত্রী নাফিছা ইসলাম সোমা প্রমুখ। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির