বাংলাদেশে “মব সন্ত্রাস” এখন জাতীয় একটি সংকট – উত্তরণের পথ কোথায় !

ড. ইউনুস সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর বিগত ১০ মাসে মব সন্ত্রাসে ৩ শতাধিক ঘটনায় নিহত ১৬৩ জন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব সন্ত্রাস’ চলছে। তাতে দেশের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। ভুক্তভোগীরা রয়েছেন আতঙ্কে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মীরা।

সরকারের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টারা কয়েক মাস ধরে মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে উদ্যোগ দেখা গেলেও মব সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি।

 

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মব পিটুনির ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

গবেষণা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত জুন পর্যন্ত ১০ মাসে ২৫৩টি মব সন্ত্রাস ঘটে। এতে ১৬৩ জন নিহত এবং ৩১২ জন আহত হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে দেশে অন্তত ৪১টি গণপিটুনির ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় ৪৭ জন। গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহত অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ডাকাতি, চুরি, খুন, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কটূক্তি প্রতারণা ও অপহরণের অভিযোগ এনে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে তাদের।

 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মব সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে মারধর, এমনকি হত্যাও করছে। এই ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অপরাধীরা প্রায়শই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই সময়ের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

দেশের বিভিন্ন সভা -সমাবেশে  শিরোনাম হচ্ছে, ‘নতুন আপদের নাম এখন মব সন্ত্রাস। এতে আতঙ্কিত, ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে দেশবাসী।’