মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশ নেওয়ার বিষয় নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা -সমালোচনা চলছে। নানাজনে নানা মন্তব্যও করছেন এই সফর নিয়ে।
প্রশ্ন এসে যায়,জাতিসংঘের অধিবেশনে বেসরকারি সফরসঙ্গীদের কাজই বা কী?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চার রাজনৈতিক নেতার সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যতের নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি আশঙ্কার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে ।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদেরা সেখানে কী অবদান রাখবেন—তা স্পষ্ট নয়।
ধারণা করা যায়, ড. ইউনুসের অনুস্থিতিতে দেশে যেন রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়। এটি ড. ইউনূসের একটি মোক্ষম কৌশল, যা তাকে সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
মুলত ড. ইউনুস রাজনৈতিক নেতাদের একত্র করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে এটি বিশেষ কারণ হিসাবে অনেকেই মনে করছেন।
সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন।
দেশের মানুষের কথা :
মোহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন সময় বিদেশে সফর করেন।
একটা বিষয় লক্ষণীয়,
ড. ইউনূসের সময় বিদেশ সফরে সংখ্যা প্রকাশ করা হয় না; শুধু বেছে বেছে বিশেষ সফরসঙ্গীদের নাম জানানো হয়।”
মোহাম্মদ ইউনুসের প্রধান উপদেষ্টা সিসাবে বিদেশে সফর কালে তিনি প্রবাসী বাংগালীদের দ্বারা বিক্ষোভ কিংবা (সফর কালে) অবস্থান রত হোটেলে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তা-ই প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বাংগালীদের রোষানল থেকে মুক্ত থাকতে বিএনপি,জামায়াত এনসিপির নেতৃবৃন্দ নিয়ে সফরের সিডিউল করেছেন।
পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন মিলে ভোটের সংখ্যানুপাতিক বিচারে আসন বিন্যাস অর্থাৎ পিআরের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের পরোক্ষ একটি জোট গঠন করেছে। সে আন্দোলন যেন চাঙ্গা না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমিরকে সাথে নিয়েছেন। মোদ্দা কথা – দেশে বিদেশে ইউনুস সরকারের অগ্রহণ যোগ্যতা এখন এতটাই প্রকট, যা অবিশ্বাস্য । সে প্রক্ষাপটে তিনি কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ।শোনা যায়,কার্যত রাজনৈতিক দলোগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে নিয়ে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন ।
জনশ্রুত রয়েছে, অসাংবিধানিক ইউনুস সরকার দেশে বিদেশে সমানে সমালোচিত,বিতর্কিত এবং ধিকৃত।
সম্প্রতি ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যুক্তরাস্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংগালীদের দ্বারা কিভাবে অসন্মানিত,অপমানিত ও রোষানলে পড়েছিলেন -যা সকলের অজানা নয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মোহাম্মদ ইউনুস ফ্রান্স থেকে ফিরে বিমান বন্দরে তথাকথিত বিপ্লবী ও গনমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন ।
স্মার্ট ফোনের বদৌলতে দুনিয়া যে হাতের মুঠোয় – সেটা – তখন তার বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে স্মার্টফোনের গুরুত্বের কথা ব্যাক্ত করেছিলেন।
কোন অনির্বাচিত সরকার এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ সাথে নিয়ে বিদেশ সফরে যাওয়ার সিডিউল যে সমালোচনার মুখে পড়বে – সেটাই স্বাভাবিক।