পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আজ ২৭ বছর পূর্ণ।।অশান্ত পাহাড় শান্ত কি হয়েছে !

ফাইল ছবি।

বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আজ ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে ।
গুরুত্বের বিচারে এটি এক যুগান্তকারী ঘটনা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এর সুখ্যাতি আছে। পাহাড়ে দীর্ঘ দুই যুগের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ও পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়াসে আজকের এই দিনে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির পর দেশে-বিদেশের সব শান্তিপ্রিয় মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে, বহু কাক্সিক্ষত রাজনৈতিক সমাধানের মধ্য দিয়ে অশান্ত পাহাড় শান্ত হবে এবং সব ধরনের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১, ২, ৩ করে দীর্ঘ ২৭ বছর অতিক্রান্ত হলো কিন্তু দুঃখজনক হলেও চরম বাস্তবতা হলো যে, আজও পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর মূল কারণ হলো রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া এবং ভূমি সমস্যার নিষ্পত্তি না হওয়া।

পরিতাপের বিষয় হল, ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর এ চুক্তি হলেও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি এর অনেক শর্ত।

তাদের (ভাষ্য অনুযায়ী ) ন্যায্য অধিকার এখনো তাদের প্রতিষ্ঠা পায়নি।
। পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি। বিগত ২৭ বছরে বহু জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গ্রাম, দোকানপাট ও বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অপরাধীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধী শাস্তি পেয়েছে বলে এমন কোনো নজির নেই। এখনো ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হয়নি। উন্নয়নের নামে পাহাড়ে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পানির উৎস ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দূর পাহাড়ে সৃষ্টি হয়েছে সুপেয় পানির সংকট। স্থানীয় রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পাহাড়িদের নিয়ন্ত্রণ আসেনি বরং এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীরা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা যতই বাড়ছে ততই সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ধরনের আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট হচ্ছে। এটিও অস্বাভাবিক নয়; কারণ একটি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার ২৭ বছর পেরোনো নেহাত কম সময় নয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, চুক্তি বাস্তবায়নের ২৭ বছর পরও পাহাড়ি অধিবাসীদের পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব মেলাতে হচ্ছে। তবে এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরাতে হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে দূরে ঠেলে দিলে চলবে না। তাই দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সর্বোপরি পাহাড়িদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অতিদ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।