দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং-এর এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ বুধবার সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: রবিউল করিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিং-এর সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিং-এর সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
পরে কেসিসি প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে রিক্সা চালক, হকার ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ছাতা, হাতপাখা ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের উদ্যোগে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সিটি ইউনিটের আজীবন সদস্য শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, কে এম হুমায়ুন কবীর, শামসুজ্জামান চঞ্চল, উপসহকারী পরিচালক মোসাম্মৎ রেক্সোনা খাতুন, প্রজেক্ট এ্যাসোসিয়েট মো: সাকিবুল হাসান, এডমিন এন্ড ফাইন্যান্স এ্যাসিসট্যান্ট মিতা মাহমুদ মুন্নীসহ যুব সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ডাকবাংলা মোড় ছাড়াও সংস্থাটি সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও নতুন রাস্তা মোড়েও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ৭ দিন এ বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।খবরঃ বিজ্ঞপ্তির