গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় চার হত্যা মামলা, আসামি ৫,৪০০

নিউজ ডেস্কঃ

গোপালগঞ্জে ১৬ জুলাই এনসিপি সমাবেশ ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার জন নিহতের ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

চারটি মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা মোট ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় এসব মামলা করা হয়।

গোপালগঞ্জে সংঘাত-সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫), জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫), কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৮), ভেড়ার বাজার ব্যাপারীপাড়া এলাকার ইমন তালুকদার (১৮) ও থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সী (৩৫)।

এর মধ্যে চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোহেল হত্যা হামলার বাদী এসআই আবুল কালাম আজাদ, দীপ্ত সাহা হত্যা মামলার বাদী এসআই শামীম হোসেন‌, ইমন হত্যা মামলার বাদী এসআই শেখ মিজানুর রহমান ও রমজান কাজী হত্যা মামলা করেন এসআই আইয়ুব আলী। হত্যা মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রমজান মুন্সীর মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।

প্রধানত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের অজ্ঞাতপরিচয়ের নেতাকর্মী ও দুষ্কৃতিকারীকে আসামি করা হয়েছে।

জানা গেছে,বাকি একজনের হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২)। এই ঘটনাতেও একটি হত্যা মামলা হবে।

 

উল্লেখ্য,  রমজান মুন্সী ছাড়া অপর চার জনের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বিলম্বে হলেও ময়নাতদন্ত করা হবে। যদিও দীপ্ত সাহার লাশ দাহ করে ফেলায় সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হবে জানা যায়নি।

 

এনসিপির নেতাদের গাড়িবহর গোপালগঞ্জে যাওয়ার পথে পথে বাধা পায়। সকালে পুলিশ এবং ইএনওর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের দায়ী করা হয়।

দুপুরে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশস্থলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। হামলার কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান এনসিপির নেতারা। তারা সেখানে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দিলে তাদের গাড়িবহর ঘিরে হামলা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এনসিপি নেতাদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার দিন রাতেই গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা করা হয়। যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। শেষ খবরে জানা গেছে, গোটা গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।