প্রচালিত রয়েছে- ২০২৪ এর আগস্টের ৩ তারিখে তরুন সেনা কর্মকর্তারা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে পরামর্শে দেন যে -“তারা আর ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে চান না রাজপথে।”
সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামান সে সময় কি সিদ্ধান্ত নেবেন -সে ক্ষেত্রে ভীষণভাবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া(IKB)সহ আরো কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মিলে প্রভাবিত করেছিলেন । সেটা পরবর্তীতে তারা যেমন তাদের ফেসবুকে লিখেছেন । বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন । এমনটি সাবেক সেনা কর্মকর্তারা ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বর্ষপূর্তির দিন ২০২৫ এর ৫ আগস্টে এসে- “সেই বর্ষপূর্তির আয়োজনে এই দাবি করেছেন, যে তারা সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট আন্দোলনে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দাবি করেন ।
প্রকাশ করা আবশ্যক,
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী অফিসার । সাবেক সেনাপ্রধান এই অফিসার যখন অবসরে গিয়েছিলেন প্রচলিত ছিল যে, তিনি তৎকালীন দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠজন।
২০১৪ এর নির্বাচনের মতো একটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করবার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ (সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নাহলেও) ওই নির্বাচনকে সেনাপ্রধান ইকবাল করিমের সময় শেখ হাসিনা পার করেছেন । সেই সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ভেবেছিলেন-” শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন হিসাবে সম্ভবত তাকে একটা রাজনৈতিক পরিচয় দেবেন । এরপর অবসরের পর তার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, “তিনি তার এলাকার কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসবেন । পাশাপাশি পরবর্তীতে (আকাঙ্ক্ষা ছিল), “তিনি মন্ত্রিত্ব বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ শেখ হাসিনার শাসন আমলের পাবেন ।”
যেটা সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে তার পরিচিতি তাকে আরো ব্যাপকতার করে তুলতে পারে । কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে পাওয়ার প্লান্ট (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) পেলেও, ইকবাল করিম ভূঁইয়ার কোন রাজনৈতিক অভিলাস পূরণ হয় নাই। অনেকেই ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট থেকে তার উতলা হয়ে ওঠার ব্যাপারটাকে চিহ্নিত করে থাকেন- এভাবেই ।
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া প্রত্যাশা ছিল যে, সেনাবাহিনীর ভেতরে (ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরের সিদ্ধান্তের) কারণে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পতন অনিবার্য হয়ে উঠল ২০২৪ এর আগস্টে। তখন ইকবাল করিম ভূঁইয়া প্রত্যাশা ছিল, তার অত্যন্ত অনুগত এবং তার পরামর্শ মেনে চলা তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করা সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামান যখন সরকার গঠন করবেন তখন নিশ্চয়ই তার জন্য কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকবেই ।তার মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের পদটি বেছে নেবেন ।
কিন্তু ইকবাল করিম ভূঁইয়া পরবর্তীতে ফেসবুকেতে ধারাবাহিক লেখা লিখেছেন তার ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট রীতি সম্পর্কে সেখানে তিনি সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন । তিনি লিখেছেন,” ৪ আগস্ট ২৪ এর তারিখ পর্যন্ত তার কাছ থেকে সব সময় পরামর্শ নেওয়া ওয়াকার-উজ-জামান কিনা ৫ আগস্ট ২৪’
তারিখে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী আকবর এবং তখনকার ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল হামিদ এর উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলো এবং আইনের শিক্ষককে সমবেত করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করল । যেখানে ইকবাল করিম ভূইয়া পরামর্শের ও কোন স্থান রাখলেন না! সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া কে কোন ফোন দেওয়া তো দূরের কথা ।”
বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন- সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার তৎকালীন ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অভিলাষ এবং জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তাকে না ডাকা- বিশেষ স্পর্শকাতর ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচ্য।
এরপর থেকে ইকবাল করিম ভূঁইয়া কিন্তু কখনো শান্ত হন নাই । তিনি প্রায়ই বিভিন্ন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন- “যখনই সেনাবাহিনীর বিষয়ে নানা রকম স্পর্শকাতর আলোচনা ক্যান্টনমেন্ট এর বাইরে চলে আসছে এবং সেনাবাহিনী সম্পর্কে সমালোচনা আলোচনার তুঙ্গে উঠছে ।”
এবারো তাই ঘটেছে, সেনা কর্মকর্তাদের কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর, তাদেরকে সেনা হেফাজতে বিচার করা হবে নাকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার করা হবে? সেই নিয়ে যখন এক রকমের অনিশ্চয়তা ইউনুস সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভেতরের অবিশ্বাস সন্দেহ তুঙ্গে ।
সেনাবাহিনীর ভেতরেও সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় সেনা নেতৃত্ব সক্ষম হচ্ছে কিনা সেনাবাহিনীর সেনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত কি না- তখন
আবার ইকবাল করিম ভূঁইয়া লম্বা লম্বা স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করেছেন । এমনকি ইকবাল করিম ভূঁইয়া আগামী পাঁচ বছরে কী ঘটবে এই নিয়ে ধারাবাহিক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন । যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অর্থবহ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সেখানে তিনি বারবারই উল্লেখ করেছেন, যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টি আরো ১/২ বছর থাকবে । (তথ্য সুত্রঃ অনলাইন হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য- উপাত্ত বিশ্লেষণ)
উল্লেখ্য ইকবাল করিম ভূঁইয়া সম্প্রতি যে স্ট্যাটাস গুলো দিচ্ছেন-সেখানে ইউনুস সরকার নির্বাচনের দিকে হাটছেন, তেমনটি তিনি মনে করছেন না।
স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্টতো বলছেন, সংস্কার আগে হলে বা সংবিধান সংশোধনের চাপ তীব্র হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়তে পারে। এতে বর্তমান স্থবিরতার কোন পরিবর্তন হবে না । যদি সরকারকে জাগাতেই হয় ,তবে মন্ত্রীসভায় নতুন তরুণ মেধাবী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে । না হলে ডঃ ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট করে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা যেতে পারে ।