এই জাতীয় সঙ্গীত স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের পরিপন্থীঃ সংবাদ সম্মেলনে আমান আযমী

ছবিঃ সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন ।

প্রতিবেদকঃ
আমি গোলাম আজমের ছেলে এবং ভারত বিরোধী লেখালেখি করার জন্য আমাকে গুম করা হয়েছিল।বিগত আট বছর বন্দী থাকা অবস্থায় পৃথিবীর কোনো আলো আমি দেখিনি!

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে অনলাইন মাধ্যম জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরও বলেন ,১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন। “আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালবাসি।” – এই জাতীয় সঙ্গীত দুই বাংলা এক করার জন্য লেখা হয়েছিল। আমরা কি দুই বাংলা এক হতে চাই ? নাকি স্বাধীন থাকতে চাই? আমরা কি ভারতের অঙ্গীভূত রাজ্য হতে চাই? এই জাতীয় সঙ্গীত – আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের পরিপন্থী।আমাদের দেশের জন্য নতুন জাতীয় সঙ্গীত তৈরি করা হোক।
মিথ্যার উপরে কোন জাতির ইতিহাস প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
একজন শেখ মুজিব সাহেব ৩ লক্ষ বলতে গিয়ে ৩ মিলিয়ন বলেছিলেন।সেটাই ৩০ লক্ষ বলেছেন। একটা জরিপ ছাড়া -৩০ লক্ষ শহীদ বলে  প্রতারনা করেছে। তারা মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারনা করেছেন ।

বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন করছি- আপনারা জরিপ করে বের করেন যে ,মুক্তিযুদ্ধে কতজন মানুষ মারা গিয়েছিল।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমী জানান, একটা জরিপ হয়েছিল(আমার জানা মতে) ২ লক্ষ ৮৬ হাজার শহীদ হন। জাতিকে সত্য ইতিহাস জানতে দিন। নতুন প্রজন্মকে মিথ্যার উপরে গড়ে তুলতে দিবেন না। আমরা হিন্দু- খ্রিস্টান -বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষ এদেশে বাস করি ।আমাদের পরিচয় – আমরা বাংলাদেশী ।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরও বলেন, গুম থাকা অবস্থায় মনে হতো তারা হয়ত আমাকে ক্রস ফায়ার করে হত্যা করবে। আমি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে শুধু কাঁদতাম।

ধরে নিয়ে যাওয়া হলো বিষয়ে তিনি বলেন, যখন আমার বাসায় তারা আসল তখন তাদের কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনারা কারা, পরিচয় কী, পরিচয়পত্র দেখান। আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না জানতে চেয়েছিলাম। তারা আমার কথার জবাব দেননি। আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে আমাকে নিয়ে গাড়িতে চোখ বেঁধে দেয়। আমার চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় একটা জায়গায় নিয়ে যায় ।