ছবিঃ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের হামলা।
নিউজ ডেস্কঃ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন,ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে । তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল হামলা সম্পন্ন করেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান। খবর বিবিসির।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে চালানো এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান অংশ নিয়েছে।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে—খুবই সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে।’
ট্রাম্প একটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে- শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা নাই হয়ে গেছে। আল–জাজিরা।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আজ ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ১০টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি (ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পুরো বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য ইরানের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ইরান ইসরায়েলি সরকারের আগ্রাসনের প্রতি কঠোর প্রতিশোধমূলক জবাব দেবে।তথ্য সুত্রঃ তাসনিম নিউজ এজেন্সি /অনলাইন।
শনিবার (২১ জুন) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে এসব কথা বলেন তিনি। ম্যাক্রোঁকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইহুদিবাদী সরকার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন যুদ্ধ চালিয়ে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।’ যুদ্ধ এবং হুমকির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে থাকা দেশগুলোকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অসম্ভব বলেও জানান তিনি।
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা তৈরির লক্ষ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতার জন্য ইরানের প্রস্তুতি প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই পারমাণবিক কর্মকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনা অনুমোদন করব না এবং একইসঙ্গে ইহুদিবাদী সরকারের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও নিষ্পেষণমূলক, সিদ্ধান্তমূলক ও বিধ্বংসী হবে।’
ইহুদিবাদী সরকার ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আগ্রাসন যুদ্ধ শুরু করে। তারা ইরানের পারমাণবিক, সামরিক এবং আবাসিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকসহ এ পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি ইরানিকে হত্যা করে।
ইরানের সামরিক বাহিনী এর পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩-এর অংশ হিসেবে ২১ জুন পর্যন্ত ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ১৮টি প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস অ্যারোস্পেস ফোর্স।