আমাদের প্রিয় নগরী খুলনার নাগরিক জীবন হবে উন্নত ও সমৃদ্ধঃ খুলনা সিটি মেয়র  

 

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, আমাদের প্রিয়
নগরী খুলনার নাগরিক জীবন হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী
শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে প্রায় চব্বিশ’শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে চারশত আশিটি রাস্তা নির্মাণ ও
পুন:নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যে বর্জ্য পরিবেশের
দূষণ ঘটায়, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে সেইসব বর্জ্য সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ, সার
ও ডিজেল তৈরী করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরীতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ
সৃষ্টি করতে ময়ূর নদীসহ কয়েকটি খাল খনন কর্মসূচিও শুরু করা হয়েছে।
সিটি মেয়র আজ রবিবার দুপুরে নগরীর নূরনগর নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রাঙ্গণে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কেসিসি’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন
প্রকল্পে’র আওতায় ১৬নং ওয়ার্ড অফিস কর্তৃক প্রকল্পের উপকারভোগীদের
অংশগ্রহণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র আরো বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন
মান উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর দরিদ্র ও হতদরিদ্র মহিলাদের ভাগ্যের পরিবর্তন
ঘটছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিগত মেয়রের সময়ে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি আবার সচল হওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে
প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের
যে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে নি¤œআয়ের মানুষের
জীবন মানের উন্নতি সাধিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি পদ্মা সেতুসহ
সরকারের গৃহীত অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, উন্নয়নের এই ধারা
অব্যাহত রাখতে আগামী মেয়র নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ
মনোনীত প্রার্থীগণকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায়
থাকাকালে খুলনার অধিকাংশ মিল কারখানা বন্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
অথচ বিএনপি-ই এখন কারখানা বন্ধের সমালোচনা করছে। বন্ধ ঘোষিত কলখানার
শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করে সরকার এ সব কারখানা আবার চালু করবে
এবং বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কেসিসি’র ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আনিছুর রহমান বিশ্বাষ-এর
সভাপতিত্বে সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন যুবলীগের
কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিসিবি পরিচালক শেখ সোহেল উদ্দিন।
সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, খুলনা আমার জন্মভূমি, আমার প্রিয় শহর। এই
শহরের মাটি ও মানুষেকে আমি একান্ত আপন করে নিয়েছি। তাই সারা জীবন
আমি খুলনার মানুষকে সেবা দিয়ে যেতে চাই। সেখ সোহেল বলেন, খুলনায়
উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে তাতে করে অচিরেই খুলনা মডার্ণ সিটিতে
পরিণত হবে। তিনি খুলনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী মেয়র
নির্বাচনে পুনরায় তালুকদার আব্দুল খালেক’কে এবং খুলনা-২ আসনে সংসদ
সদস্য হিসেবে শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল’কে নির্বাচিত করার আহবান জানান।
সিডিসি’র উপকারভোগীদের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা,
সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস,
সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা, কেসিসি’র সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর
শেখ আমেনা হালিম বেবী, ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ
উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার চালু। স্বাগত বক্তৃতা করেন
যমুনা ক্লাস্টারের কোষাধ্যক্ষ সুরাইয়া জামান। কেসিসি’র কাউন্সিলর সুলতান
মাহমুদ পিন্টু, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান

রাসেলসহ সিডিসি’র নেতা-কর্মী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের
নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাষ মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবহন কাজে
ব্যবহারের জন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লাশবাহী গাড়ী প্রদান করেন। এ
সময় তার সহধর্মিনী তাহেরা খাতুন আপেল বিশ্বাস, তার কন্যা আলেয়া আনিস
বিশ্বাস নূর উপস্থিত ছিলেন।খবরঃ বিজ্ঞপ্তির