নিউজ ডেস্কঃ
পুলিশ সারা দেশে কিশোর গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে । সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিজ্ঞ জনেরা মনে করছেন।।
কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে, সক্রিয় কিশোর গ্যাং, তাদের সদস্য এবং যারা এসব গ্যাং সংগঠিত করে বা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা (ফাইন্যান্স ও সুরক্ষা) দেয়, তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের সব ইউনিটকে ।(জাতীয় গনমাধ্যমে প্রকাশ)
জানা গেছে, সমন্বিত অভিযানের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে পুলিশ ইউনিট ।
এ নির্দেশনার আওতায় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ (এসআরবি) পুলিশের সব ইউনিট কাজ করবে।
এসআরবির এক কর্মকর্তা জাতীয় গনমাধ্যম ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, তারা প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে ১ হাজার ৩৩৩টি কিশোর গ্যাং, ২১৩ জন দলনেতা বা সংগঠক এবং ২৭ পৃষ্ঠপোষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করেছেন।
পুলিশ সদরদপ্তরে তালিকা পাঠানোর আগে বর্তমানে বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই চলছে।
কিশোর গ্যাংগুলোর কোনো পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার নেই। বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট আলাদাভাবে নিজেদের মতো করে তালিকা তৈরি করে, যার অধিকাংশই বেশ পুরোনো এবং বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল নেই।
পুলিশ সদরদপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৩০৭টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের আওতাধীন এলাকায় ৯৩টি, ঢাকা রেঞ্জে ৭৮টি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি গ্যাং রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তালিকায় রয়েছে ৪১টি গ্যাং। এ ছাড়া খুলনা মহানগরে ১৩টি, রাজশাহী মহানগরে ১২টি, সিলেট মহানগরে ৫টি, বরিশাল মহানগরে ৩টি এবং খুলনা রেঞ্জে চারটি গ্যাংয়ের তথ্য রয়েছে।
তবে গাজীপুর মহানগর পুলিশ, রংপুর মহানগর পুলিশ, রাজশাহী রেঞ্জ বা বরিশাল রেঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তালিকা নেই।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৪৮টি গ্যাংয়ের ২৭০ সদস্য ৬৯টি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মামলা (মোট মামলার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ) গ্যাংগুলোর মধ্যকার সংঘাত সংক্রান্ত।
পুলিশের তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, এই ৪৮টি গ্যাংয়ে মোট তালিকাভুক্ত সদস্য ৫৭৭ জন।