নিউজ ডেস্কঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে হওয়া মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব আজ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরেন আখতারুজ্জামান। জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্যসহ ৭০ জনের এই প্রতিনিধিদল গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুইভাগে বিদেশ যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী (গণমাধ্যমে প্রকাশ), গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-৩৩৮ যোগে আসা যাত্রীরা অতিরিক্ত চাপ এবং ট্রলির ঘাটতির কারণে লাগেজ পেতে বিলম্বের শিকার হলে সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে পেটানো এবং ‘ঘাড় ধরে’ বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এজাহারে বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা লোকজন বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেইপিআই) ভেতরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামান অন্যান্য যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমানের একজন প্রতিনিধির সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
বাদী উল্লেখ করেন, এই ঘটনা একটি সংবেদনশীল এবং সংরক্ষিত স্থাপনায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে, যেখানে সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রেকর্ড, ফ্লাইটের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করা হতে পারে।