প্রসঙ্গঃ মার্কিন সুপার হারকিউলিস বিমান প্রশিক্ষন অথচ বাংলাদেশের সে বিমান নাই, আরাকান আর্মিদের মার্কিন সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

বাংলাদেশে এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কি মহড়া হচ্ছে?

এই যৌথ মহড়া আমাদের কি জানান দেয়?

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী তাদের মহড়ায় মার্কিন সুপার হারকিউলিস বিমান নিয়ে এসেছে ।

এক্ষেত্রেও প্রশ্ন এসে যায় সেই মার্কিন সুপার হারকিউলিস (C-130J) বিমান

 দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে লাভ কি ? যদি সেই বিমান আমাদের না থাকে?

 মার্কিন সুপার হারকিউলিস বিমানের মুখ্য কাজ হল- প্যারা ট্রপারের কাজ করা।

মার্কিন সুপার হারকিউলিস (C-130J) বিমানের মূল কাজ হলো সামরিক পরিবহন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান, যার মধ্যে সৈন্য, সামরিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য রসদপত্র দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা অন্তর্ভুক্ত। এটি বিভিন্ন ধরনের সামরিক মিশনে ব্যবহৃত হয় ।

অর্থাৎ মার্কিন সুপার হারকিউলিস বিমান মানবিক এবং জরুরি কাজে ব্যাবহার করা হয়।

সময় সচেতন মানুষের এই বাংলাদেশ-মার্কিন যৌথ মহড়াকে ঘিরে বেশ কিছু স্পর্শকাতর প্রশ্ন ও পরিস্থিতির প্রক্ষাপটের কথা বলছে।

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি

মার্কিন সামরিক বাহিনী একরকম অবারিত চলাচল করছে। চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে প্রস্তুতি চলছে, মার্কিন বাহিনী তাদের নৌ-বিমান বহরসহ সকল কিছু ব্যাবহার করে(প্রয়োজনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিয়ে)।তারা আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের চীনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুলোকে, মিয়ানমার কাচিনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুলোকে সহায়তার দেওয়ার লক্ষে কাজ করছে।

বাংলাদেশের এই অঞ্চলটিকে ব্যাবহার করার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন লুকছাপা নাই। কারণ তারা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে -মিয়ানমারের এই রাখাইন,মিয়ানমারের চীন প্রদেশ,কাচিন।কারণ মার্কিনীদের লক্ষ হল -রাখাইন,,মিয়ানমারের চীন প্রদেশ ,কাচিন অঞ্চল গুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।সেই সাথে উক্ত অঞ্চল গুলোর সশস্ত্র বিদ্রোহী গুলোর পাশে দাঁড়ানোই তাদের পরিকল্পিত লক্ষ?

প্রকাশ করা আবশ্যক, রাখাইন,,মিয়ানমারের চীন প্রদেশ -এই দুটো দখলে আছে আরাকান আর্মির ।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক ইউ এবং কিয়াউকতাও টাউনশিপে দুটি জান্তা ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর দখল করেছে বলে দাবি করেছে। গতবছর ৭.২.২৪ এ গণমাধ্যমে প্রকাশ।

আরাকান আর্মিকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা যে দিতে চায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে -তাদের সশস্ত্র যুদ্ধে ।যার মাধ্যমে তাঁরা মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড থেকে ওই অঞ্চলকে স্বাধীন অঞ্চল হিসাবে আলাদা ঘোষণা করতে চায়। স্বাধীনতা ঘোষণা করতে চায়। সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন গোপনীয়তা রাখে নাই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সংক্রান্ত করিডোরের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে।

যুক্তরাষ্ট্র “মিয়ানমার এক্ট ‘ ফিরিয়ে এনেছে ।মানে যেটা বার্মা এক্ট হিসাবে পাস করেছে । লক্ষ-মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তারে চীন এবং রাশিয়া যে ভূমিকা রাখবে,তার বিপরীতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সশস্ত্র যুদ্ধে যাবে ।

তাদের প্রধান লক্ষ হল- মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাটি ব্যাবহার করে আরাকান আর্মিদের সার্বিক সহায়তা প্রদানই তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ।