ফাইল ছবি।
নিউজ ডেস্কঃ
সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফাইড ফেসবুকে পরিবারসহ বোন সায়মা ওয়াজেদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি ও সুনাম ক্ষুন্ন করার প্রসঙ্গ নিয়ে একটি পোষ্ট করেছেন।
পোষ্ট টি তুলে ধরা হল।
জয় লিখেছেন,
ইউনূস সরকারের আজ্ঞাবহ তথাকথিত দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) আমার পরিবারের আরেকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমার বোন সায়মা ওয়াজেদ এবং তার সংগঠন, সূচনা ফাউন্ডেশন (SF) এর বিরুদ্ধে “মামলা” আসলে এই দখলদার ও অবৈধ সরকারের আমাদের পরিবারের সুনাম নষ্ট করার, আমার বোনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার এবং রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে জোর করে আমাদের বাদ দেওয়ার বিরামহীন অপপ্রচারের অংশ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) করা এই হয়রানিমূলক মামলায় যে “অভিযোগগুলো” তোলা হয়েছে, তা হলোঃ
i) সূচনা ফাউন্ডেশন কেবল কাগজে-কলমে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান;
ii) আমার বোন ও সূচনা ফাউন্ডেশন অনুদানের নামে ঘুষ সংগ্রহ করেছে;
iii) এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সূচনা ফাউন্ডেশন-কে কর মওকুফ দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে; এবং
iv) আমার বোন সূচনা ফাউন্ডেশন-এর নামে সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালনা করেছে।
এই “অভিযোগগুলোর” ধরণই মামলার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেয়। সূচনা ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা অটিজম, স্নায়বিক বিকাশজনিত ব্যাধি (NDDs) এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে। সায়মা ওয়াজেদ একজন বিশ্বখ্যাত মানসিক স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী, যে কি’না ২০০৯ সাল থেকে অটিজম সচেতনতা তৈরি ও নীতি প্রণয়নে যুক্ত রয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় তার বোন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সম্পর্কে আরও লিখেছেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অসংখ্য সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – সায়মা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আঞ্চলিক অটিজম কৌশল প্রণয়নে সহলেখক ছিল, মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ে WHO মহাপরিচালকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যাথাম হাউসের “কমিশন ফর ইউনিভার্সাল হেলথ”-এর একজন কমিশনার ছিল। সূচনা ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারপারসন হিসেবে সায়মা বাংলাদেশে অটিজম ও স্নায়বিক বিকাশজনিত ব্যাধি (NDDs)-এর জন্য জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়ন করে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক অফিসের (WHO SEARO) আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সায়মাকে সূচনা ফাউন্ডেশন-এর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে।
সূচনা ফাউন্ডেশন ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী দশ বছরে, সায়মার নেতৃত্বে সূচনা ফাউন্ডেশন অটিজম, স্নায়বিক বিকাশজনিত ব্যাধি (NDDs) এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চমানের গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে সূচনা ফাউন্ডেশন সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার হ্রাসের ক্যাম্পেইন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি, প্রতিবন্ধিতা পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ, নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং সরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। গুগলে একবার সার্চ করলেই এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে অসংখ্য সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যাবে।
দুদক (ACC) বলছে, তারা সূচনা ফাউন্ডেশনের কোনো স্থায়ী কার্যালয়ের “প্রমাণ পায়নি” এবং তাই এটিকে কেবল “কাগুজে প্রতিষ্ঠান” হিসেবে অভিহিত করছে। অথচ দুদক তার সুবিধামতো একটি বিষয়কে উল্লেখ করেনি যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ঠিক পাশেই অবস্থিত সূচনা ফাউন্ডেশন-এর অফিসটি ২০২৪ সালের আগস্ট ও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনুসপন্থী সন্ত্রাসীদের সহিংস হামলার শিকার হয়। অফিসটি ভাঙচুর করা হয়, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়, এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর অফিসও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একজন মানসিক স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী সূচনা ফাউন্ডেশন-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য “ঘুষের” আশ্রয় নেবেন, এই ভাবনাটাই হাস্যকর। একটি বৈধ অলাভজনক ফাউন্ডেশন হিসেবে সূচনা ফাউন্ডেশন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় উৎস থেকেই তহবিল গ্রহণের পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে। বাংলাদেশে খ্যাতনামা সব এনজিও কিভাবে পরিচালিত হয়? বর্তমান সরকারের একাধিক উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত এনজিওগুলো কোন উৎস থেকে অর্থ পায়?
একইভাবে, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সূচনা ফাউন্ডেশনকে করমুক্তির সুবিধা দেওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকার রাখে। যদি গ্রামীণ ব্যাংকের মতো গরীবের রক্তচোষা একটি প্রতিষ্ঠান, যা ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারলে হতদরিদ্র মানুষের গবাদি পশুও কেড়ে নেয় তারা করমুক্তির সুযোগ পেতে পারে, তাহলে কেন সমাজের সবচেয়ে নিগৃহীত ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিবেদিত প্রকৃত অলাভজনক সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশনের করমুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে?
তথাকথিত পুর্বাচল দুর্নীতি মামলার মতো এই মামলাতেও দুদক আমার বোন ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিষয়ে কোন প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা “সন্দেহজনক লেনদেন”-এর কথা বলে, কিন্তু তার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সেটাই ব্যাখ্যা করতে পারে নাই। প্রকৃতপক্ষে দুদক ইউনুসের তৈরি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্যাতনের নীলনকশা অনুসরণ করছেঃ
– প্রথমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জাতীয় গণমাধ্যম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করা;
– তারপর দুদক কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই “লোক দেখানো” তদন্ত শুরু করে;
– এরপর মামলা দায়ের করে;
– কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আদালত অনুপস্থিত আসামিদের কোনো সুরক্ষা দেয় না;
– এবং শেষমেশ একতরফা (ex-parte) রায় ঘোষণা করে।
ইউনুস সরকারের আনা এইসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো তাদের চরম হতাশার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। অর্থনীতি থেকে শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে দারিদ্র্য বিমোচন – প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অবৈধ সরকারের প্রিয় অবৈধ রাজনৈতিক দল এনসিপি (NCP) জনগণের মন জয় করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। অপরদিকে তারা আমাদের ঘরবাড়ি ও অফিস বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে; শত শত মানুষকে হত্যা করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। তবুও জনগণের মনে আমাদের জন্য ভালোবাসা ও সমর্থনে তারা সামান্যতম ফাটলও ধরাতে পারেনি।
দুদকের এইসব মামলা হলো অবৈধ সরকারের শেষ চেষ্টা – যারা জনগণের ভয়ে তটস্থ, কারণ তারা জানে ক্ষমতা হারালে তাদের জন্য কী পরিণতি অপেক্ষা করছে।
কিন্তু তারা কোনওদিন সফল হবে না।
আমাদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না।