প্রফেসর বারাকাত আটকের নেপথ্যে জঙ্গিবাদ অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা নাকি চলমান ‘মব সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রদান?

ইউনুস সরকারের শাসনামলে অর্থনীতিবিদ প্রফেসর বারাকাত আটক। অবশ্য বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই নানারকম নির্যাতন -নীপড়ন- অসন্মানের মুখমুখি তাকে পড়তে হয়ে ছিল।  প্রকাশ করা আবশ্যক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন শিক্ষক বাংলাদেশের চলমান নাজুক পরিস্থিতির আলোকে একটা বিবৃতি দিয়েছেন। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী একজন ছিলেন প্রফেসর বারাকাত ।

 

উল্লেখ্যঃ

গত পরশু(বুধবার/৯.৭.২৫ ইং)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন শিক্ষকের উক্ত বিবৃতিটি প্রথম আলো পত্রিকার শিরোনাম ছিলঃ

‘মব সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ শিক্ষকের বিবৃতি’

প্রথম আলোয় প্রকাশিত ঢাবি শিক্ষকদের বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইন-আদালত, গণমাধ্যম, ব্যবসাকেন্দ্র, আবাসিক ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠান পর্যন্ত মব সন্ত্রাসের কালো থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘মব’ নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না এবং আগ্রাসী মবকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।-১০.৭.২৫ ইং (  প্রকাশিত) 

 

 প্রশ্ন উঠছে -তাহলে কি প্রফেসর বারাকাতকে কণ্ঠরোধ করার জন্যই -এই গ্রেফতার ? যাতে অন্য শিক্ষকবৃন্দ এ জাতীয় বিবৃতি হতে সরে থাকেন?

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেছেন, একটি পক্ষ ইতিমধ্যেই বিবৃতিদাতাদের বিরুদ্ধে চাকুরিচ্যুতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ( তথ্যঃ অনলাইন)

পাশাপাশি আরেকটা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে – প্রফেসর বারাকাতের প্রতি (এই ইউনুস সরকার) বড় অভিযোগ হল, ” তিনি জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। 

তাঁর গবেষণার উপজীব্য বিষয় ছিল – কিভাবে ধর্মকে ব্যাবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের অর্থনৈতিক শক্তির অনুদান যোগাড় করে। বিশেষ করে তাদের আর্থিক যোগান -কোথা থেকে কেমন করে কিভাবে আসছে? ২০০২ বা ২০০৩ সনের দিকে প্রফেসর বারাকাত বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে উন্মোচিত করেছিলেন।

 

আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন।

 

প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাতকে (গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে খবর প্রাকাশিত হয়েছে।