সংস্কার না এটা সংবিধান ধ্বংস করার একটা পথঃ ড. কামাল।।প্রধান উপদেষ্টার পদ সাংবিধানিক না নির্বাহী আদেশে 

সংস্কার না এটা সংবিধান ধ্বংস করার একটা পথঃ ড. কামাল।।প্রধান উপদেষ্টার পদ সাংবিধানিক না নির্বাহী আদেশে

এই সংবিধানের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে। সেটা ফেলে দিয়ে নতুন একটা সংবিধান করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়, গ্রহণযোগ্য নয়।এটাতো সংস্কার না এটা সংবিধান ধ্বংস করার একটা পথ । – ড. কামাল হোসেন।

সংস্কারের প্রধান ইস্যু বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল করাঃ

ছাত্র সমন্বয়কদের সংস্কারের প্রধান ইস্যু বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল করে দেওয়া। তারা বাংলাদেশকে second republic ঘোষণা করতে চান । ড. ইউনুস যেকথা ৮ আগস্ট ২৪’ ক্ষমতা গ্রহনের পর বলেছিলেন , এই স্বাধীনতা ২.০ এর বাংলাদেশে রিসেট বাটনে চাপ দিতে হবে।

 ড. ইউনুসের পরোক্ষ সহযোগিতায় জুলায় ছাত্র দিয়ে গঠিত জাতিয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) দল গঠনের মুল দাবী হিসাবে উপস্থাপন করে, তারা  second republic ঘোষণা করতে চায়। তারা” গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান” বাতিল করতে চায়। তারা নতুন করে সংবিধান লিখতে চায়। দেশের পরবর্তী নির্বাচন করে ‘গন পরিষদ’ নির্বাচন হিসাবে ঘোষণা করতে চায়। যে ‘গন পরিষদ’ নতুন সংবিধান রচনা করতে পারে।

এ সব লক্ষ কিংবা পরিকল্পনা স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো উদ্বেগজনক হিসাবে সর্বজনবিদিত ।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসাবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে পদে বহাল আছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে বড় ধরণের কোন রদবদল আসেনি।বাংলাদেশের সকল পদ পদায়ন আগস্ট ২৪’ পরবর্তী রদবদল (কার্যত তছনছ) হয়ে গেছে।

আমাদের মনে রাখা রাখা প্রয়োজন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান বদল বা পরিবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে। ” গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান” এ লেখা আছে -রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ।প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে নেওয়া প্রথা বটে।সাংবিধানিকভাবে সশস্ত্রবাহীনির প্রধানদের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিজ ক্ষমতায় পরিবর্তন করতে পারেন না।প্রধান উপদেষ্টার পদটি ” গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান”  অনুযায়ী কোন ভিত্তি নাই। এটি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম

(দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে) প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে –

আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

[আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;]

ড. কামাল হোসেনের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনঃ

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম  প্রণেতা হিসেবেই ড. কামাল হোসেন অধিক পরিচিত। রাজনীতিতে তিনি সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কামাল হোসেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি গণফোরাম নামের রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।