সুন্দরবন দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনা শাখার উদ্যোগ্যে এক সেমিনার গতকাল সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও খুলনা শাখার সমন্বয়কারী অ্যাডঃ মোঃ বাবুল হাওলাদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মুখবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন কর্মী, গবেষক বাহলুল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাপা’র সদস্য যথাক্রমে গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা আহŸায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, কবি, সাংবাদিক, লেখক আবু আসলাম বাবু, উন্নয়ন কর্মী বাকের আহমেদ, নতুনতারা’র প্রতিষ্ঠাতা সাইফুর মিনা, কবি, সংগঠক নাজমুল তারেক তুষার, অ্যাড. এনায়েত হোসেন, এস এম এ রহিম, মোঃ বেলাল হোসেন প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন পৃথিবীখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের গুরুত্ব বুঝতে আমাদের সরকারগুলো- নীতিনির্ধারণী মহল ব্যর্থ হওয়ায় পরিবেশ-প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী এ অমূল্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে। অপরাজনীতির অবৈধ সুবিধা গ্রহণের শিকার এ সুন্দরবন। সকল আইন, বিধি-বিধান, নীতিমালা বিশেষজ্ঞদের মতামত, পরিবেশবাদীদের সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, দমন-পিড়ন চালিয়ে অবৈধভাবে সুবিধা গ্রহণ করে রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে এ বনটিকে চুড়ান্ত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। একদিকে ফারাক্কা বাঁধসহ উজানের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টিকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মিষ্টি পানির সংকট অন্য দিকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় লবণ পানির আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সুষ্ট ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকীর মূখে। অন্যদিকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এটাকে ঘিরে বিভিন্ন প্রকার স্থাপনা তৈরী ও ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ এবং ট্যুরিজমের নামে অপরিকল্পিত রিসোর্টসহ বিভিন্ন সুন্দরবন বিনাশী কর্মকান্ডের কারণে এ বনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের পরস্পর যোগসাজসে চোরা শিকারীরা বাঘ শিকার করে চামড়াসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পাচার, হরিণ শিকার, নদীতে বিষ প্রয়োগে মৎস্য শিকার, অনিয়মতান্ত্রিক মধু সংগ্রহ, অবৈধভাবে কাঠ ও গোলপাতা আহরণ করে প্রাকৃতিক এ সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। আইন থাকলেও নেই কোন প্রয়োগ। নেই কোন জবাবদিহিতা-স্বচ্ছতা। প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। বক্তারা ১৪ ফেব্রæয়ারিকে জাতীয় সুন্দরবন দিবস ঘোষণা করে সরকারিভাবে পালনের আহŸান জানিয়ে বলেন, এটি এখন সময়ের দাবী।