হরিণ শিকার বন্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা এবং প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনা শাখা। সংগঠনের পক্ষে সংগঠনের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও খুলনা শাখার সমন্বয়কারী অ্যাডঃ মোঃ বাবুল হাওলাদার এক বিবৃতিতে বলেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার, মাংস বিক্রি এবং ভক্ষন অনাকাঙ্খিত একটি প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয়দের মধ্যেই নয় বরং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে হরিণের মাংসের প্রতি রয়েছে একটা বিশেষ ঝোঁক। দুঃখজনকভাবে দেশের অনেক কর্তাব্যক্তিদের তুষ্ট করতেও হরিণের মাংস উপহার বা খাওয়ানোর রেওয়াজ লক্ষ করা যায়। অথচ সুন্দরবনের বাস্তসংস্থানের তিনটি শ্রেণির মধ্যে হরিণ প্রথম শ্রেণিভূক্ত খাদক। কোনো শ্রেণির খাদক বিলুপ্ত হলে বাস্তসংস্থান ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ, এক স্তরের প্রাণী তার নিচু স্তরের প্রাণীর উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। কিন্তু একশ্রেণির অসাধুচক্র সুযোগ পেলেই হরিণ শিকার করে থাকে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুম অর্থাৎ শীতকালে পর্যটনের অজুহাতে অসাধু চক্র সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিভিন্নভাবে হরিণ শিকার করে থাকে। এব্যাপারে বন বিভাগের ভূমিকা সব সময় রহস্যজনক। অথচ হরিণসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশে কঠোর আইন রয়েছে। ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী হরিণ শিকারের শাস্তি হিসেবে
৩ (তিন) বছর কারাদÐ বা ৩ (তিন লক্ষ) টাকা জরিমানা বা উভয় দÐে দÐিত করার বিধান রয়েছে। পুনরায় একই অপরাধের জন্য ৫ (পাঁচ) বছর কারাদÐ বা ৫ (পাঁচ লক্ষ) টাকা জরিমানা বা উভয় দÐের বিধান রয়েছে। হরিণ এর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে, দখলে রাখিলে বা ক্রয়-বিক্রয় করিলে বা পরিবহণ করিলে ২ (দুই) বছর কারাদÐ বা ১ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা অথবা উভয়দÐের বিধান রয়েছে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হইলে ৪ (চার) বৎসর কারাদÐ অথবা ২ (দুই লক্ষ) টাকা জরিমানা বা উভয়দÐের বিধান রয়েছে। কিন্তু এবিষয়ে হরিণ শিকারীরা যেমন অনেকটাই অসচেতন অন্যদিকে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনেকটাই উদাসীন। অথচ সামান্য লাভ ও লোভের বশবর্তী হয়ে পরিবেশ ও সম্পদের অপূরনীয় ক্ষতি করে ফেলা হচ্ছে। যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মারাত্মক ভয়াবহ। বিবৃতিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে সচেতনতামূলক কর্মসূচী গ্রহণ এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বনাশা এ কর্মকান্ড বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের আহŸান জানানো হয়। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির