অশ্রুআর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন প্রধান শিক্ষক মানস রায়

অশ্রুআর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে
গেলেন প্রধান শিক্ষক মানস রায়
অশ্রু আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন প্রধান শিক্ষক মানস রায়। সহকর্মী আর শিক্ষার্থীকে কাঁদিয়ে নিজেও কাাঁদলেন। বিদায় অনুষ্ঠান দেখলে বোঝা যাচ্ছিল তিনি ছিলেন একজন দক্ষ কারিগর। অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কোন ঘাটতি ছিলো না। সকল বক্তাকে বলতে শোনা গেছে তিনি ছিলেন যোগ্য, দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শবান, শিক্ষার্থীবান্ধব, শিক্ষকবান্ধব একজন কর্মবীর প্রধান শিক্ষক । সহকর্মীদের প্রত্যাশা এই কর্মবীরের অবসর জীবন সুস্থ, সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় হোক। এমন দৃশ্য ঘটেছে রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা সভায়।
আজ বুধবার দুপুর ২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানস রায়ের বিদায় সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোজাফফার রশিদী রেজা। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ লুৎফর রহমান, সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মনজুরুল আলম, দিপপল বিশ^াস, শর্মিষ্ঠা মন্ডল, রোকসানা আক্তার, ছবি রানী সরকার, রূপসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছাঃ নাঈম জাহান, সাংবাদিক অমিয় কান্তি পাল, প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জমির উদ্দিন তালুকদার, অশোক কুমার মন্ডল, মুনির হোসেন, জি এম হুমায়ন কবির, মরিয়ম খাতুন, মাহামুদ হোসেন, সৈয়দ আনিসুজ্জামান, এস কে জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, হোসনে আরা খাতুন, সেলিমা আক্তার, শিরিন আক্তার, সোমা নাগ, এফ এম রফিকুল ইসলাম, নাছিমা খাতুন, কাজী তরিকুল হাসান, নাজমুন নাহার হিরা, মোর্শেদ আলী বিশ^াস, আরজানা ববি,আসমা আক্তার, স্বপ্না ঘোষ,লিলিঅ্যান হালদার, অঞ্জনা রানী দাস প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন শিক্ষক শাহানাজ পারভীন।
সংবর্ধনার জবাবে মানস রায় বলেন, আমার জীবনের যে শ্রেষ্ট সময়টুকু ছিল তা আমি এই প্রতিষ্টানে উজাড় করে দিয়েছি। প্রতিষ্টানের প্রধান হওয়ায় আমাকে সহকর্মীদের সাথে কখনও কখনও বিরূপ ব্যবহার করতে হয়েছে। আবার তাদের বিপদে আমি নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার বেশি কিছু আপনাদের কাছে চাওয়ার নেই শুধু চাইবো আমি যে স্বপ্নের বাগান তৈরি করে গেলাম তা আপনারা ভালো ভাবে লালন পালন করে রাখবেন। আমার সে সন্তানগুলো আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম তাদের ভালোভাবে দেখবেন।
সহকর্মীরা বলেন, তিনি শুধু প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। তিনি একজন একাযেমী শিক্ষা উন্নয়ন ও সমাজসেবার কাজ করতেন। সহকর্মীদেও মৃত্যু অথবা অসুস্থতার কথা শুনলে ছুটে যেতেন। এই সংবর্ধনা প্রমান করেন তিনি কতটুকু শিক্ষকদেও মধ্যে মেলবন্ধন তৈরী করতে পেরেছিলেন। সহকর্মীরা তার হাতে তুলে দেন নানা উপহার সামগ্রী। বিদায়ের সময় তার সাথে ছিলেন তার সহধমীনি বীনা রায় । খবরঃবিজ্ঞপ্তির