উপকূলীয় এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ ও চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণে করনীয় শীর্ষক এক সেমিনার নগরীর গল্লামারীর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের বাস্তবায়নে ছিল ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ফোয়াব)। ফিসারি প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (এফপিবিপিসি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ফোয়াবের অর্থায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফোয়াবের সভাপতি মৎস্য উন্নয়ন ও সমবায় ব্যক্তিত্ব মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ জয়দেব পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজু ফিসারিজের চেয়ারম্যান এস এম রাজুল হাসান রাজু। প্রধান আলোচক ছিলেন ফুলতলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার রনজিৎ কুমার।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিবিদ জয়দেব পাল বলেন, মৎস্য সেক্টর আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। তাই এ সেক্টর আমাদের জীবনযাত্রার সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। দেশের ২ কোটি লোক এই পেশার নিয়োজিত। জিডিপির ৪ ভাগ আসে মাছ থেকে। গত অর্থবছরে ৭৬ হাজার ৫৯১ মেট্টিক টস মাছ রপ্তানি করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। উপকূলীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে এ সেক্টর। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন মাছ হবে দেশের ২য় রপ্তানি পণ্য। দেশের উন্নয়নের প্রধান অংশিদার হচ্ছে মাছ। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিকু ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছের চাষ করতে হবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইলিশের হারানো দিন ফিরিয়ে এনেছে।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার ঘোষ, খামার ব্যবস্থাপক মো: নাসির উদ্দিন, ফোয়াবের যুগ্ম সম্পাদক শেখ শাকিল হোসেন, অর্থ সম্পাদক সাফায়েত হোসেন শাওন, ফোয়াবের জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ অনরুদ্ধ বাহাদুর, ফোয়াবের জেলা সদস্য সচিব নাসিরুল্লাহ হীরা, জেলা মো: শহিদুল ইসলাম মাস্টার, রূপসা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মহিদুল ইসলাম, মো: শফিকুল ইসলাম, সুজিত মন্ডল, মো: আলী হোসেন, প্রিতীষ মন্ডল, মো: হেমায়েত, গোপীনাথ রায়, বাসুদেব দেবনাথ, বিকাশ বিশ^াস, আফরোজা আলী, মো: সোহাগ হাওলাদার, মো: আব্দুর রউফ শিকদারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রান্তিক মৎস্য চাষিরা।
সেমিনারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ৩টি দাবি উত্থাপিত হয়। দাবি ৩টি হলো, ভর্তুকি মূল্যে সরকারিভাবে চিংড়ি ক্রয় করতে হবে, আন্তর্জাতিক বাজার দর হিসেবে দাম দিতে হবে এবং অশুভ পুষ চিংড়ির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখ্য, শ্রীম্প হ্যাচারী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (শেফ) এর সাধারণ সম্পাদক মো: নজিবুল ইসলাম মোবাইলে তৃণমূল পর্যায়ে উপস্থাপিত দাবি ৩টির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির