নিউজ ডেস্কঃ
সরকার দেশের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে সোমবার (৩০ অক্টোবর) আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।জানা যায়, এখন পর্যন্ত ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের আবদেনের প্রেক্ষিতে ৪৯ হাজার ৭৫৫ টন আলু আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অনলাইন।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) দেশে আলুর উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক দামে বাজারে আলু বিক্রি হওয়ায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে এ পর্যন্ত ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন সাপেক্ষে ৪৯ হাজার ৭৫৫ টন আলু আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এসব আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সে সময়ে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর যৌক্তিক দাম ১৪ টাকা ১৭ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ২৭ টাকা ৬৩ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
এসময় নির্ধারিত মূল্যে আলু বাজারে বিক্রয় হচ্ছে, কিনা তা মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যে কোল্ড স্টোরেজ ও খুচরা কোনো পর্যায়েই আলু বিক্রয় হচ্ছে না বলে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মহল আলুর বাজার অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে বলে পরীলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে আলুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমদানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে দেশের সব কোল্ড স্টোরেজে বুধবার (১ নভেম্বর) থেকে আলুর সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি কেজি ২৬ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সময় সংবাদকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী।
এছাড়া খুচরা পর্যায়েও সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিন আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আজ (৩০ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তারা আলু আমদানি করতে চায়। আমরাও সার্বিক দিক বিবেচনা করে দেখেছি। এত দাম দিয়ে মানুষ আলু কিনতে পারছে না। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর দাম কম। তাই আমরা আলু আমদানিতে সম্মতি দিয়েছি। আজকে থেকেই আইপি (ইম্পোর্ট পারমিট) ইস্যু করাও শুরু হবে।’
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিজেদের তৎপরতা আরও বাড়াবে, যাতে করে বাজারে কোল্ড স্টোরেজ সিন্ডিকেট যেভাবে আলুর দাম বাড়াচ্ছে, তা কমিয়ে আনা যায়। আড়ত ও কোল্ড স্টোরেজ মিলেই দাম বাড়াচ্ছে। এটি কমিয়ে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও তৎপরতা শুরু করবে।
আলুর দাম কোনোভাবেই ৪০ থেকে ৪৫ টাকার বেশি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।