২০০১ সালে ৯/১১ এর ঘটনার পর থেকে সারাবিশ্ব চমকে উঠেছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ।আর আমেরিকার যে যুদ্ধ -তখন তুঙ্গে ।
এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর পশ্চিমা দেশ গুলোর রাষ্ট্রদূতরা আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনার বাড়িতে এসে ভিড় করেন এবং খোঁজ খবর নেন। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়েত জোট সরকারের কাছে তাদের জোর দাবী ছিল- ” তারা যেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার যথাযথ তদন্ত করেন।’
প্রকাশ করা আবশ্যক, এই যথাযথ তদন্ত নিয়ে তাদের একরকম সন্দেহ তৈরি হয়েছিল- ” কারণ ‘গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরপরই ,রীতিমত সাবান পানি দিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ধুয়ে ফেলা হয়। যা তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেই বিজ্ঞজনেরা মনে করেছিলেন।
ঘটনাটি তদন্তে বাধা দিতে পারে:
আলামত নষ্ট হওয়া:
গ্রেনেড হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পর ঘটনাস্থল সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে বিভিন্ন ধরনের আলামত, যেমন – গ্রেনেডের অংশবিশেষ, রক্ত, বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ফরেনসিক প্রমাণ লোপাট:
ফরেনসিক তদন্তের জন্য এই আলামতগুলো অত্যন্ত জরুরি। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে ঘটনার সঠিক চিত্র তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাক্ষীদের স্মৃতিকে প্রভাবিত করা:
ঘটনাস্থল দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলা হলে সাক্ষীদের স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উক্ত সময়ে চাউর একটি ঘটনা স্মরণ করা প্রয়োজন- ” গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রক্তাক্ত হতাহত শতশত মানুষ অঙ্গ হারিয়ে ছিলেন। স্পিল্টার বিদ্ধ হয়েছিলেন। এই হতাহত মানুষ গুলো যেন চিকিৎসা না দেওয়া যায় -সেজন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের গেইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফার্মেসী বন্ধ রাখা হয়েছিল ।

বাংলাদেশে দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদুতদের মনে সন্দেহ দানা বেধেছিল যে – ” সরকার এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে । কিংবা তৎকালীন সরকারের আশকারাতেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই সরকার এ তদন্ত করবে না। সে কারণে আলাদা করে বারবার সে দেশগুলো এই দাবী গুলো জানানো হচ্ছিল “যাতে তখনকার সরকার একটা যথাযথ একটা তদন্ত করে – কি করে এই যুদ্ধাস্ত্র আরজেস গ্রেনেড বাংলাদেশে ঢুকতে পারল? আর কি করে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সমাবেশে তার প্রাণনাশের জন্য ছোঁড়া হতে পারলো?”
এরপর বিএনপি শৈবাল সাহা পার্থ নামের একজনকে গ্রেফতার করে বলে -এ গ্রেনেড হামলা করেছে। আবার যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কেউ কে গ্রেফতার করে ।আর তারপর সিআইডির হাতে তদন্ত গেলে ঘটে -“”জজমিয়া নাটক”। যা দেশের রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা অবহিত।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সদ্য তথ্য হল –
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের রায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর (২০২৫ইং) ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এই রায়ের দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য,এই মামলায় ২০১৮ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। এছাড়া, তারেক রহমানসহ ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন ও ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে গত ১ ডিসেম্বর (২০২৪ ইং) তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেয় হাইকোর্ট। এরপর চলতি বছরের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আপিল মঞ্জুর হলেও হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেনি আপিল বিভাগ।