১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২৪’ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিচার করা যাবে না -এটা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নয়?-জনজিজ্ঞাসা 

নিউজ ডেস্কঃ

দেশে ২৪’ এর ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কোন সরকার ছিল না। এরপর মোহাম্মদ ইউনুস মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ পাঠ করেন। পরবর্তীতে মহামান্য রাস্ট্রপতিকে অপসরণ করার নানান কুটচাল চালিত করেছেন বলে দেশের মানুষের মাঝে এখনো চাউর  রয়েছে। 

প্রসঙ্গক্রমে, ইউনুস সরকার যে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ চালু সংক্রান্ত তথ্যঃ 

 

এ প্রসঙ্গে জনগনের কথাঃ

 

 *লুট হয়ে গেল ৬ হাজার অস্ত্র আর লক্ষ লক্ষ গুলি ।

  *ইউনূস সরকার ক্ষমতায় বসে চুপিচুপি খুলে দিলেন কারাগারের দরজা। শতশত বন্দি পালিয়ে গেল।

*দেশের শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীরা একে একে দ্রুত জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলো জেল থেকে।

 

 *ইউনুস সরকার বলছে, ২৪ এর ১৫ জুলাই তারিখের পর থেকে ৮ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিচার করা যাবে না।

 

এ প্রসঙ্গে বিস্তারিতঃ

১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২৪’ পর্যন্ত আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের কোন বিচার করা যাবে না বলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ সংক্রান্তে তার ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেছিলেন। পাশাপাশি ইউনুস সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, এ মর্মে যে- ” ১৫ জুলাই থেকে ৮ ই আগস্ট পর্যন্ত সংগঠিত ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য কোন মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না ।

 

১৪ অক্টোবর, ২০২৪ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ‘যেসব ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাঠে থেকে এর পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাই হতে ৮ ই আগস্ট পর্যন্ত সংগঠিত ঘটনার জন্য কোন মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না।’ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

ফিরে দ্যাখাঃ 

 

 বিগত সময়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাংলাদেশের কোন কোন বিষয়ে প্রয়োগ করা হয়েছে? 

 

১৯৭৫ সালের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ছিল বাংলাদেশের সামরিক আইন প্রশাসন কর্তৃক ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রণীত একটি বিতর্কিত আইন। এটি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল ব্যক্তিকে আইনি দায়মুক্তি প্রদান করে , যিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের সাথে নিহত হন। দায়মুক্তির অর্থ ছিল খুনিরা যেকোনো আইনি পদক্ষেপ থেকে রেহাই পেতেন। এই আইনের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত পরিবারের সদস্যরা খুনিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে পারতেন না।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই ইনডেমনিটি আইনের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশটিকে সংসদের আইনে রূপান্তরিত করে । ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর , ১৯৯৬ সালের ইনডেমনিটি (রহিতকরণ) আইনের মাধ্যমে আইনটি বাতিল করা হয়।