হলি আর্টিজানে বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই’ জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

ফিরে দ্যাখাঃ
***********
দিনটি ছিল ২০১৬ সালের ১ জুলাই (শুক্রবার)। রাত পৌনে ৯টার দিকে খবর পাওয়া যায় রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে’ পুলিশের গোলাগুলি হচ্ছে। নব্য জেএমবির পাঁচ জঙ্গি বেকারিতে ঢুকে প্রথমে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হামলায় মোট ২৯ জন নিহত হন।
হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনার বিবরণঃ
***********************************
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত ৯টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সময়ে (ইউটিসি+০৬:০০) পাঁচজন সশস্ত্র জঙ্গি ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা লোকজনকে জিম্মি করে এবং গুলি চালায়।হামলাকারীরা নিজেদের সাথে ক্রুড বোমা, চাপাতি ও পিস্তল বহন করছিল এবং স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ কয়েক ডজন মানুষকে জিম্মি করেছিল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বেকারির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
এই হামলায় মোট ২৯ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২০ জন জিম্মি (১৭ জন বিদেশি এবং ৩ জন স্থানীয়), দুই পুলিশ সদস্য, পাঁচ জঙ্গি এবং বেকারির দুই কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নিরাপত্তা বেষ্টনী গঠন করে। পরে ২ জুলাই ভোররাতে (প্রায় ০৩:০০টায়) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে “অপারেশন থান্ডারবোল্ট” নামক একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এই অভিযান সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ম প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এর নেতৃত্বে শুরু হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান।
বাংলাদেশ পুলিশর মহাপরিদর্শক জানান, সকল হামলাকারী বাংলাদেশের নাগরিক।আইএসআইএল এ হামলার দায় স্বীকার করে এবং হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে। তবে
বিবিসি নিউজ এ ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইসলামি হামলা হিসেবে বর্ণনা করে।স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো একে ৭/১৬ নামে অভিহিত করে।