আজ ২৬শে মে ২০২৪ বেলা ১১ঃ৩০ মিনিটে, সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত
বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য সুপারগ্রেড কার্যকর
এবং সতন্ত্র বেতনস্কেল দাবিতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের
শিক্ষকরা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাথে একাত্বতা
ঘোষণা করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে ১৮ই মে ২০২৪ ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন
কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিদ্যমান
পেনশন এবং ‘প্রত্যয়’ স্কিমের সুবিধা ও বৈষম্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অবলম্বে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করলে ২৫ শে মে
থেকে ৪ঠা জুন পর্যন্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা
দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক সমিতি আজকের এই মানববন্ধন আয়োজন করে। মানববন্ধনে অবিলম্বে
সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার দাবীতে শিক্ষক সমিতির
সভাপতি ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ আশিকুল আলম,
বায়োকেমিস্ট্র ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ শরীফুল
ইসলাম, এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের
বিভাগীয় প্রধান হুমায়রা ইয়াসমিন ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক দেবাশীষ
পন্ডিত বক্তব্য প্রদান করেন। ৪ঠা জুনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন
পদক্ষেপ গ্রহন না করে হলে ঐ দিনই আন্দোলনের বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা করা
হবে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারনা নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
একটি কল্যাণমুখী চিন্তার ফসল। গত ১৭ই আগস্ট ২০২৩ তারিখে ‘সর্বজনীন
পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩’ অন্যুায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন
স্কিম উদ্ধোধন করেন যা দেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা এবং এর
মাধ্যমে সরকারী চাকরীর বাহিরে থাকা নাগরিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনার
উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। ১৭ই আগস্ট ২০২৩ তারিখে যে চারটি প্যাকেজ ঘোষণা করা
হয়, তাতে বেসরকারী খাতের চাকরিজীবীরা ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিযুক্তরা
‘সুরক্ষা’ প্রবাসী নাগরিকগণ ‘প্রবাসী’ এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী
‘সমতা’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ যখন প্রশংসিত
হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গত ১৩ই মার্চ ২০২৪ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়
কর্তৃক একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয় যাতে, স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত,
রাস্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা বা তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান
সমূহকে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা ১লা জুলাই এবং তৎপরবর্তী
সময়ে যারা চাকরিতে নতুন যোগদান করবেন তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
‘প্রত্যয়’ স্কিমের সাথে বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থাপনার তুলনামূলক চিত্র বলে দেয় এই
ব্যবস্থা সরকারী চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক,
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের সৃষ্টি করবে। বিদ্যমান ব্যাবস্থায় পেনশনাররা
যে সকল সুবিধাদি প্রাপ্ত হন, তা বিভিন্ন সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের
জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রণোদনার অংশ হিসেবে প্রবর্তন করা হয় যা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ভোগ করে আসছিলেন। ১লা জুলাই এর পূর্বে
যোগদানকৃত শিক্ষকরা ‘প্রত্যয়’ স্কিমের আওতায় যাবে না বলে শিক্ষকসমাজ আজ
স্বার্থপরতার পরিচয় দিতে পারে না। এর আগেও ২০১৫ সালে ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে
শিক্ষকদের অবমাননা করা হয়েছিল যা পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়
সুরাহা হয়। সেই আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি
ফেডারেশনের তৎকালীন নেতৃত্ববৃন্দকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপারগ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা
হয়েছিল যা অদ্যাবধি কার্যকর করা হয়নি। শিক্ষকরা অবিলম্বে সেটি কার্যকর করার
দাবি জানায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্ধোধন
করেন সেদিন ‘প্রত্যয়’ স্কিমটি ছিল না। শিক্ষকদের সাথে আলোচনা না করে এ
ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
দেওয়া স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। হঠাৎ করেই একটি মহল
নিজেদের সুযোগ সুবিধা অক্ষুন্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উপর এই
বৈষম্যেমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। শিক্ষকদের দাবি সরকার অবিলম্বে এই
প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ
অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবেন। খবর; বিজ্ঞপ্তির