সাতক্ষীরায় সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার ১০ জনের নামে মামলা করায় বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি

সাতক্ষীরায় সাপ্তাহিক জনতার মিছিল’র কথিত সম্পাদক শুভ্র শচীন সহ ১০ জনের নামে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই চক্রটি মামলা তুলে নিতে বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জনৈক আবু আসলাম বাবু নামের সাপ্তাহিক জনতার মিছিল নামক পত্রিকার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে যেখানে কথিত সম্পাদক শুভ্র শচীন। পত্রিকাটি প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স এ্যাক্ট অমান্য করে সাতক্ষীরা থেকে একটি চক্র অবৈধ ভাবে প্রকাশ করছে। এই পত্রিকাটির অন্তরালে চক্রটি চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। এই পত্রিকার নামে সাতক্ষীরার বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে। আর এই চাঁদার একটি অংশ নিয়মিত কথিত সম্পাদক শুভ্র শচীন কে দিতে হয়।
সর্বশেষ সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর খবর প্রকাশ করায় মানহানি মামলায় দৌড় ঝাপ শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাংবাদিক বলেন, সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সহ পাম্প মালিক আমজাদ হোসেন কয়েক দফায় প্রস্তাব দিয়েছেন মানহানি মামলাটি খান নাজমুল হুসাইন কে বলে তুলে নেওয়ার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ সাংবাদিক পাম্প মালিক আমজাদ হোসেন সহ সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের বরাত দিয়ে বলেন, সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন যদি মামলা না তুলে নেয় তা হলে খান নাজমুল হুসাইন সহ সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল কে বিভিন্ন হয়রানি মুলক মামলা সহ দফায় দফায় বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ করে সম্মানহানি করবো। এ ছাড়া বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন বলেও দাবি করেন ঐ সাংবাদিক। প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সদরে অবস্থিত মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন মালিক আমজাদ হোসেন, পাম্প ম্যানেজার বাবলু রহমান  সহ ১০ জনের  বিরুদ্ধে  গত মঙ্গলবার ২৫-১০-২২ ইং তারিখ সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ আমলী (৩ নং তালা) আদালত এর বিজ্ঞ বিচারক বন্যা খাতুন এর ১ম আদালতে ঢাকা হতে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার ও খুলনা হতে প্রকাশিত দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খান নাজমুল হুসাইন বাদি হয়ে একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন। মামালাটির তদন্ত করার জন্য বিজ্ঞ আদালত পি,বি,আই সাতক্ষীরা কে দায়িত্বভার দিয়েছেন বলে আদালত সুত্রে জানা গেছে। আসামীরা হলেনঃ তালা মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন মালিক আমজাদ হোসেন, পাম্প ম্যানেজার, শেখ বাবলুর রহমান, খুলনা হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রধান সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি জি,এম, কামরুল ইসলাম, সম্পাদক শুভ্র শচীন, সহ- সম্পাদক জাকির হোসেন জনি, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বার্তা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ন বার্তা সম্পাদক রানা, মফস্বল বার্তা সম্পাদক জাহিদ হোসেন। সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন এবং সাংবাদিক মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর পক্ষের আইনজীবী ছিলেন জি, এম, আসাদুজ্জামান আসাদ।
মামলা সুত্র প্রকাশ, গত ইংরেজি ১০-১০-২২ তারিখ ঢাকা হতে প্রকাশিত দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি , যশোর হতে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কণ্ঠ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও খুলনা হতে প্রকাশিত দৈনিক অর্নিবান পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ ইব্রাহিম খলিল ও মামলার ২ নং সাক্ষী দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে সাতক্ষীরা তালা সদরে অবস্থিত মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন তেলের পাম্প এর কাছাকাছি পৌছালে তার মটর সাইকেলের তেল ফুরিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক একটি মুদি দোকান থেকে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে ঐ পাম্প থেকে ১ লিটার পেট্রোল ক্রয় করেন। তখন আপাতত দৃষ্টিতে তার নিকট তেলের পরিমাণ কম মনে হলে ভুক্তভোগী পাম্পের ম্যানেজারকে জানালে তাদের তেল পরিমাপের ক্যান দিয়ে ক্রয়কৃত ১ লিটার তেল পরিমাপ করিলে ১০০ গ্রাম তেল কম হয়। এ সময় ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করিলে পাম্প ম্যানেজার বিভিন্ন হুমকি ধামকি সহ মিথ্যা মামলায় ফাসানোর হুমকি দেয়। এমনকি ভুক্তভোগীর নগদ টাকার ক্রয়কৃত তেল ফেরত দেয়নি পাম্প ম্যানেজার। এরই প্রেক্ষিতে ঐ দিনে মামলার ২ নং সাক্ষী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাতক্ষীরার নিকট তালা উপজেলা সদরে মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৮ ধারায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ১১-১০-২২ তারিখে দৈনিক গ্রামের কণ্ঠ পত্রিকায়” সাতক্ষীরা তালায় মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন এর বিরুদ্ধে তৈল পরিমাপের কারচুপির অভিযোগ” শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এরই জের ধরে মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশনের মালিক, ম্যানেজার সহ পাম্পের আরও অনেকে নিজেদের অপরাধ ঢাকিবার জন্য বাদির মানহানি মানহানি করার অভিপ্রায়ে লিপ্ত হয়। যার প্রেক্ষিতে ঐ তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ” সাপ্তাহিক জনতার মিছিল “নামক পত্রিকার কর্তৃপক্ষের  সাথে আতাত করে বাদীর মানহানি করার জন্য পাম্পে তেল দেওয়ার দীর্ঘ ৬ দিন পর অর্থাৎ ১৬-১০-২২ তারিখে অতি সুপরিকল্পিত ভাবে সাপ্তাহিক জনতার মিছিল নামক পত্রিকায় বাদীর নামে “বারবার গণধোলাই খেয়েও লজ্জা হয়নি নাজমুলের” শিরোনামে মিথ্যা ও মানহানিকর রিপোর্ট প্রকাশ হয়।  যাহা দেশের প্রচলিত আইনে দন্ডযোগ্য। উক্ত রিপোর্টে বাদী ও ২ নং সাক্ষীকে ম্যাজিস্ট্রেট, ভোক্তা অধিকার অফিসের লোক, ডি,জি, এফ, আইয়ের লোক বলে আখ্যা দিয়ে প্রহসন করা হয়। এ ছাড়া মামলার বাদী ও ২ নং সাক্ষীকে প্রতারক ও প্রতারক চক্রের সদস্য এবং চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়। সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়ে মামলার ৩ নং সাক্ষী সকাল ১০ টার সময় তালা বাজার হইতে বাদীকে মুঠোফোনে জানায়। বাদী তার গ্রামের বাড়ি ঘোনা থেকে তালা বাজারে সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় পৌছালে তাহার বিরুদ্ধে লেখা রিপোর্টটি দেখতে পায়। তখন মানহানির শিকার হওয়া বাদী সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার কর্তৃপক্ষদের ফোন করে তাহার বিরুদ্ধে রিপোর্ট লেখার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে মামলার ৩ থেকে ১০ নম্বর আসামীরা হুমকি দিয়ে বলে “তোর ও ইব্রাহিমের মানহানি করার জন্য আমরা মিথ্যা ও ভূয়া সংবাদ প্রকাশ করেছি। এই নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোর সাংবাদিকতা ঘুচিয়ে দেবো, তোকে জানে শেষ করে দেবো” একই সময় ১ ও ২ নং আসামীদের সাথে দেখা হলে বাদীকে মারাত্মক আঘাত সহ প্রান নাশের ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। জনসম্মুখে বাদীকে উক্ত মানহানিকর অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করায় এবং মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করায় বাদীকে মানহানি করা হয়েছে। উক্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার কারণে বাদী বর্তমানে সমাজের মানুষের কাছে আপাত অত্যান্ত নেতিবাচক দৃষ্টিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পরের দিন দৈনিক গ্রামের কণ্ঠ পত্রিকায় এবং দৈনিক অর্নিবান পত্রিকায় “সাতক্ষীরা তালায় তেল চুরির খবর প্রকাশ করায় প্রতিবেদকের সম্মানহানি করতে মরিয়া আমজাদ হোসেন” শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনার পরের দিনের এই রিপোর্টে প্রমান করে যে ঘটনার তারিখে বাদীর নামে সংবাদ প্রকাশ করে বাদীকে চরম ভাবে মানহানি ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সে কারণে ভুক্তভোগী খান নাজমুল হুসাইন গত ইংরেজি  ২৫-১০-২২ তারিখ ১০ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে সি, আর মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং ৩৪৯/২২। তেল চুরির সংবাদ প্রকাশের ২০ দিন পর সাতক্ষীরা হতে প্রকাশিত একটি কথিত দৈনিক পত্রিকাকে ম্যানেজ করে পাম্প মালিক আমজাদ হোসেন সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন ও সাংবাদিক মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত ছাড়াই মিথ্যা মনগড়া কাল্পনিক ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন যাহা অত্যন্ত সম্মানহানির বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী মোঃ ইব্রাহিম খলিল ও খান নাজমুল হুসাইন। তারা আরও বলেন, বক্তব্য ছাড়াই পেশিশক্তি বলে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে কথিত পত্রিকার অপরিপক্ক অপ-সাংবাদিক এমন মিথ্যা বানোয়াট খবর প্রকাশ করেছেন। পাম্প মালিক নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নানা ফন্দিফিকির করার নিমিত্তে সাংবাদিকের সম্মানহানি করার মিশনে নেমেছেন। জানা গেছে, কিছু অপ-সাংবাদিককরা মোটা অংকের  টাকা পেলে সত্য ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মুল ধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সম্মানহানির প্রতিবেদন লিখতে তৎপর। সুশীল সমাজের মতে, এসব অপ-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পার পাচ্ছে অপরাধীরা। সে কারণে বেড়ে যাচ্ছে সমাজে অপরাধ এবং অপ-সাংবাদিকদের দৌড়াত্ব। এদিকে পাম্প মালিক আমজাদ হোসেন সহ সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার পক্ষ থেকে মানহানি মামলার তদবিরে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এ বিষয় তালা উপজেলার সদরে অবস্থিত মেসার্স মিলিনিয়াম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন এর সত্তাধিকারী আমজাদ হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে গতকাল সন্ধ্যা ৬.০১ মিনিটে ০১৭০৯-২৮৮৮৪৫ নম্বরে একাধিকবার আলাপের চেষ্টাকালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় খুলনা হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে মানহানি মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানহানি  মামলা করার আগে আমি বলেছিলাম নিউজটি ভুলবশত হয়ে গেছে। মামলা টি নাজমুলকে করতে নিষেধ করেন আমি প্রতিবাদ দিচ্ছি। মামলা তুলে না নিলে আপনি মিথ্যা মামলায় ফাসাবেন বলেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মিথ্যা মামলা করবো কেন যে করার সে করবে। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির