খুলনা মহানগরীতে বৃক্ষরোপণে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির এক সভা আজ মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসিবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
উল্লেখ্য, সরকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচির আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি খুলনা মহানগরীতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখ প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবুজ নগরী গড়ে তুলতে একইসাথে বৃক্ষরোপণের কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বৃক্ষরোপণের চেয়ে বৃক্ষের পরিচর্যা করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি নগরীর সরকারি বেসরকারি সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বড় সড়কসমূহের ডিভাইডারসহ উভয় পাশে বৃক্ষরোপণ, রোপণকৃত গাছে পানি দেয়ার জন্য পিকআপ ও ভ্যাকুট্যাগের ব্যবহার, স্থানভেদে কোন গাছ রোপণ করা হবে তা কেসিসি কর্তৃক নির্ধারণ, পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে তালিকাসহ গাছ প্রেরণ, পার্কসমূহে মৌসুমি ফুলের গাছ রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রেখে অন্যান্য বৃক্ষরোপণ, ভবিষ্যতে রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি করার সুযোগ রেখে বৃক্ষরোপণ করা, যত্র-তত্র গবাদি পশু ছেড়ে না দেয়ায় নিরুৎসাহিত করতে খোয়াড় তৈরী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে জনবল প্রদানের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়।
সভায় প্রশাসক পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খালগুলির কচুরিপানা পরিষ্কার করা, বাজারসমূহের আধুনিকায়ন, রাস্তার বাজারগুলি সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেয়া, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিসাইকিং প্লান্ট চালুর মাধ্যমে শহরটাকে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এনে আধুনিক ধারায় নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সদস্য খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: নবীউল ইসলাম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো: আব্দুস সামাদ, কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ভেটেরিনারী সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ^াস, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, মাশাস-এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাড. শামীমা সুলতানা শিলু, নাগরিক ফোরাম-এর মহাপরিচালক এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, কারিতাস-এর প্রজেক্ট ইনচার্জ আনন্দ দাশ, নিসচা’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, বেসরকারি ব্যাংক ব্রাকের ব্রাঞ্চ এন্ড চার্টার ম্যানেজার কাজী শাকিল আখতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনে খুলনা মহানগরী এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে ইপিআই রিভিউ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় কেসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রশাসক হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন করায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মত স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করার জন্য বিশেষ করে শিশুদের বিষয়ে সকলকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। নগরীতে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারি।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সচিব মো: রেজা রশীদ, সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্ট ডা. তাপস কুমার হালদার প্রমুখ বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির