নিউজ ডেস্কঃ
আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আদালত অবমাননার মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমিনুল গনি (টিটু) তার সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আমির হোসেনকে নতুন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন।
গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার সঙ্গে দলীয় নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস হতে থাকে, যার একটি ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।’ ফরেনসিক পরীক্ষায় তা সত্য প্রমাণিত হলে প্রসিকিউশন বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনে এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুলকে শোকজ করা হয়।
নির্ধারিত তারিখগুলোয় তারা হাজির না হওয়ায় আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং শেষমেশ ১৯ জুন তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রাষ্ট্রনিযুক্ত করা হয় আমিনুল গনি টিটুকে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়ে তার পোস্ট সামনে এলে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বুধবার শুনানিকালে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আপত্তি জানালে আমিনুল গনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যা বলেছেন তা পেশাগত দায়িত্ব থেকে আলাদা এবং মামলাটি তিনি নৈতিকভাবে চালাতে প্রস্তুত। তবে আদালতের ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ মন্তব্যের পর তিনি নিজেই প্রত্যাহারের আবেদন করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে নতুন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
পরবর্তী শুনানি আগামী ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।