ভূকম্পন পরীক্ষাগার প্রসঙ্গে এ্যাড: ফিরোজ আহমেদ

সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন

আজ ৯ মার্চ। এদিন আমরা হারিয়েছিলাম গণমানুষের নেতা এ্যাড: ফিরোজ
আহমেদকে। দেখতে দেখতে এক যুগ পার হয়ে গেলো। কিন্তু ফিরোজ আহমেদের
স্বপ্ন অধরায় রয়ে গেলো। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সুবক্তা, সদালাপী, স্পষ্টভাষী
ও বহুগুণের অধিকারী। ভাবতে পারতেন সুদুপ্রসারী। তিনি সেই ভাবনাকে বাস্তবে
রূপ দিতে চাইতেন। সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় হতাশ হয়ে পারতেন। তার ভাবনা
শুনে অনেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন। কেউবা হেসে উড়িয়ে দিতেন।
২০০৪ সালের কথা। ফিরোজ ভাই আমার উদ্দ্যেশে বললেন, আচ্ছা আমরা খুলনার জন্য
একটা ভূকম্পন পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি তুলতে পারি না। শুনে অবাক হলাম। বললেন
সরকার চট্রগ্রামের জন্য ভূকম্পন পরীক্ষাগারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কথা
ভাবছে। আমরা আমাদের এই অঞ্চলের জন্য এমন একটি দাবি তুলতে পারি কিনা ?
অবাক দৃষ্টি তাকিয়ে রইলাম। এটা এই অঞ্চলের জন্য খুব কি প্রয়োজন ? কিছু না
বলে মাথা নাড়িয়ে সমর্থন দিলাম । সাথে সাথে কর্মসূচি রেডি। আগামী
সপ্তাহে পিকচার প্যালেসের মোড়ে এই দাবিতে জনউদ্যোগের আয়োজনে অবস্থান
কর্মসচি করবো শুক্রবার বেলা ১১টায়। বেলা, নাগরিক সমাজসহ কর্মসূচিতে
যারা আসে তাদের সবাইকে জানাতে হবে। তোমার কাজ ব্যানার তৈরী কওে আনা।
টাকার যোগান দেবো আমি। যেমন কথা তেমনি কাজ। পরের সপ্তাহে কর্মসূচি।
মাইকে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা। সুনামীর ভয়বহতা আর ভূমিকম্পনের আগাম বার্তা।
মানুষ শুনেছে , তবে ভাবতে পারছিলো না আদ্যও কি এই ভূকম্পন পরীক্ষাগার
প্রয়োজন?
সেইদিন এই দাবিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমারও মনে নানা প্রশ্ন ছিলো।
আজ আর নেই। ফিরোজ আহমেদরা আগাম বাতর্ৃা দিতে পারতো। আজ তেমন
আগাম বার্তা দেওয়ার লোকের খুব অভাব। কর্মসূচি করেই থেমে যাননি। তিনি
বিভিন্ন দৈনিকে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লিখলেন। ২০০৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি
সাপ্তাহিক একতায় বড় করে লিখলেন “প্রসঙ্গ : সুনামি এবং খুলনায় ভূকম্পন
পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি” শিরোনামে প্রকাশিত হলো। প্রকাশিত কপি নিয়ে
আমাকে পাঠিয়ে দিলেন শান্তিধামের ইউনিয়ন ফটোস্ট্যটের দোকানে। সেখানে
ছিলো তার ভক্ত কদম। তাকে দিয়ে আসলে আমার কাজ শেষ। পরে ফিরোজ ভাই ভালো করে
দেখে শতশত কপি নগরীতে বিলিয়ে বেড়াতেন। তখনও বুঝতে পারিনি এই দাবিটি
একসময় জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

কমরেড ফিরোজ আহমেদ আজ নেই। তার সাথিরা রাজপথে এখনো আছে। তার
প্রিয় সংগঠনগুলো রাজপথের মানুষের পাশে দাড়িয়ে আছে। এখন শুধু আবার জোড়ে
আওয়াজ তুলতে হবে বর্তমান সরকারের কাছে খুলনায় ভূকম্পন পরীক্ষাগার স্থাপন
করতে হবে। ভূকম্পনের আগাম বার্তা জানতে এটি খুব প্রয়োজন।
এ্যাড. ফিরোজ আহমেদ ছিলেন একজন উদ্ভাবনপ্রিয় মানুষ। খুলনার আপামর
জনসাধারণ তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি সমাজ ও মানবতার জন্য সারাজীবন
কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্মকে এই মহৎ মানুষটির দেখানো পথ অনুসরণ করা
দরকার। এমন বিদগ্ধ বিরল ব্যক্তিত্বের কাছে দেশ ও জাতি ঋণী থাকবে,এটাই স্বাভাবিক
প্রত্যাশা।
২০১৪ সালের ৯মার্চ খুলনা উন্নয়নের ফেরিওয়ালা কমরেড ফিরোজ আহমেদ সকলকে
কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আজও তাঁর স্বতীর্থরা রাজপথে লিফলেট হাতে এ্যাড:
ফিরোজ আহমেদকে খুঁজে বেড়ায়। ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কমরেড ফিরোজ
আহমেদকে লাল সালাম।