নিউজ ডেস্কঃ
খুলনায় ভারতীয় সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ প্রাপ্তির আশায় নিরব মন্ডল নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডুমুরিয়া থানার গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।নিহত নিরব গুটুদিয়া গ্রামের শেখর মন্ডলের ছেলে।
এ ঘটনায় নিরবের পাঁচ সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ৫ জন হচ্ছে- গুটুদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র সোহেল মোল্লা(১৫), হীরক রায়(১৫) ও পিতু মণ্ডল(১৪), দশম শ্রেণির ছাত্র পিয়াল রায়(১৫) ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র দ্বীপ মণ্ডল(১৩)। এর মধ্যে পিয়ালের বাড়ি ডুমুরিয়ার ভান্ডারপাড়া তেলিগাতি এলাকায় এবং অন্য চারজনের বাড়ি গুটুদিয়া এলাকায়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,ডুমুরিয়া থানার ওসি শেখ কনি মিয়া জানান, একমাস ধরে এ পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মতো বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির পর কয়েকজন ছাত্র নিরবকে বিদ্যালয়ের পেছনে একটি পরিত্যক্ত রুমে নিয়ে যায়। সেখানে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এরপর নিরবের বাবাকে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে নিরবের বাবা বৃহস্পতিবার বিকেলে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্যে রাত বারোটায় বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নিরবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে , ভারতীয় সিরিয়াল দেখেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরো বলেন, তারা ক্রাইম পেট্রোলের একটি পর্ব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। সেই প্লান অনুযায়ী কার কি ভূমিকা থাকবে, সেই অনুযায়ী তারা ভূমিকা নিয়েছে। তারা এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা ক্রাইম পেট্রোল দেখেই মুক্তিপণ ৩০ লাখ টাকা দাবি এবং আগে পরে কি করবে সেই অনুযায়ী কাজ করেছে।
পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত ১১ টার পর বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় জনগন, জনপ্রতিনিধিরা ছিল। সেখানে যে আটককৃতদের দেখানো মতে ভবনের একটি কক্ষে লাশটি নোংরা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। নিরবের কাঁধে স্কুল ব্যাগ ছিল। তখন আমরা লাশটি উদ্ধার করি। এ সময় আমরা দিয়ে নীরবকে মারা হয় এবং যে ফোন ও সীম দিয়ে কল করা হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধার করি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত নিরব মন্ডলের পিতা শেখর মণ্ডল বলেন, স্কুল ছুটির পর নিরব না আসায় বাসা থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয় নিরব এখনো আসেনি। এরপর ফোনে একজন নিরবের মুক্তির জন্য টাকা দাবি করে এবং পুলিশকে না জানাতে বলে। এসময় আমি বলি পুলিশকে জানাবো, তখন ফোন কেটে দেয়। বিষয়টি আমি ডুমুরিয়া থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ওই মোবাইল নাম্বার অনুযায়ী তাদেরকে আটক করে।
তিনি বলেন, এমনভাবে যেন আর কোন মা-বাপের বুক খালি না হয়। আমরা চাই তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
তিনি বলেন, সমাজিকভাবে কিশোর অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। তারই একটা অংশ হিসেবে ছেলেগুলো এতো সহজেই এ ধরনের কঠিন একটি অপরাধ করতে সাহস পেয়েছে। তারা জানিয়েছে টাকার জন্যই নিরবকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের এবং আটক ৫ জনকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।